শিক্ষাশিরোনাম

চবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, প্রতিবাদে বাস-ট্রেন বন্ধ

সংবাদদাতা : ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে রোববার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় রুটে কোনো ট্রেন চলাচল করেনি।এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন পুলের বেশ কয়েকটি গাড়ির চাকার হাওয়া ছেড়ে দিয়েছে ছাত্রলীগের একাংশ।
শাটল ট্রেন ও শিক্ষক বাস চলাচল না করায় ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের তুলনায় কম। আর পূর্ব ঘোষণা ছাড়া শাটল ট্রেন বন্ধ থাকায় ষোলশহর স্টেশনে বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
এর আগে শনিবার মধ্যরাতে বিজয় ও সিএসসি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় রোববার অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ডাক দেন বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা।
রোববার বিষয়টি জানিয়েছেন ষোলশহর স্টেশন মাস্টার জাফরুল্লাহ মজুমদার এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. রাশেদ উন নবী।
জাফরুল্লাহ বলেন, শাটল ট্রেনের চালক অপহরণ ও ট্রেনের হোস পাইপ কেটে দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গামী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
অধ্যাপক ড. রাশেদ উন নবী বলেন, ১৭টি গাড়ির চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি গাড়িতে সুপারগ্লু দেওয়া হয়েছে। ফলে শহরের দিকে কোনও বাস ছেড়ে যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে বাস চলাচল শুরু করবে।
শনিবার রাত ১টার দিকে হল দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রলীগের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তক সংগঠন চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার (সিএফসি) ও বিজয়। দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে ভোর ৪টা পর্যন্ত। এতে আহত হয় বিজয় গ্রুপের ৫ কর্মী।
এ ব্যাপারে বিজয় গ্রুপের নেতা ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এইচএম তারেকুল ইসলাম বলেন, চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়। তাকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চেয়েছি। কিন্তু সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে রাজনীতি করার মন মানসিকতা তার নেই। তার মতো একজন অছাত্রের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের রাজনীতি কখনও সফল হবে না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি এবং দ্রুত তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়ায় গাড়ি চলাচল বন্ধচবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সিএফসি গ্রুপের নেতা রুবেল বলেন, যারা গতরাতে ঝামেলা করেছে তারা ছাত্রলীগের কেউ না। তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে আমার কর্মীদের জিম্মি করার চেষ্টা করে। পরে আমার কর্মীরা আত্মরক্ষার জন্য তাদের মারধর করে।
সংঘর্ষের কথা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্র বলেন, উভয়পক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button