জাতীয়শিরোনাম

চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, নেই আনুষ্ঠানিকতা

বৈশ্বিক মহামারী ঘোষিত করোনাভাইরাসের মহাদুর্যোগের মধ্যে অনেকটা নীরবেই চলে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতির স্বর্ণদ্বার খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
প্রতি বছর ২৫ এপ্রিল জাঁকজমকপূর্ণভাবে দিবসটি পালন হয়ে থাকলেও এবার নেই কোনো আনুষ্ঠানিকতা।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, বর্তমানে করোনার সংক্রমমণের বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর এক কঠিন সময় অতিবাহিত করছে। সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সময়েও চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শ্রমিকরা দেশের সাপ্লাই চেইন নির্বিঘ্ন রাখার স্বার্থে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। আমদানিকৃত মালামাল ডেলিভারি সীমিত হওয়ার কারণে বন্দরে সাময়িক কন্টেইনার জট ও জাহাজ জট পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে এ বছর বন্দরের ১৩৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই পালন করা হচ্ছে।
বন্দরের ইতিহাস অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘চট্টগ্রাম পোর্ট কমিশনার্স এ্যাক্ট’ এর অধীনে ১৮৮৮ সালের ২৫ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
১৯৬০ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য গঠিত হয় ‘চট্টগ্রাম পোর্ট ট্রাস্ট’। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর বন্দরের কার্যক্রমের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৯৭৬ সালে বন্দর ব্যবস্থাপনাকে অধিকতর স্বায়ত্বশাসন প্রদান করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ১৯৭৬ জারি করা হয়। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত বন্দর পরিচালিত হয়ে আসছে।
১৯৭৭ সালে কন্টেনার যুগে প্রবেশ করে চট্টগ্রাম বন্দর। এস এস টেনাসিটি নামক জাহাজে পরিবাহিত ৬টি কন্টেনার হ্যান্ডলিং এর মাধ্যমে কন্টেনার পোর্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
২০০৭ সালে বন্দরে শুরু হয় বার্থ অপারেটিং সিস্টেমের। বর্তমানে বন্দরে সর্বমোট ২৯টি বার্থ রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি কার্গো বার্থ আর এগারোটি হচ্ছে কন্টেনার বার্থ। এছাড়া সিমেন্ট ক্লিংকার, সাইলো, তেল ও সারের জন্য রয়েছে বিশেষায়িত বার্থ। কন্টেনার পোর্ট হিসেবে যাত্রা শুরুর পর ১৯৮৯ সালে প্রথম ১ লাখ টিইইউস কন্টেনার হ্যান্ডলিং করা হয়। আর ২০১৯ সালে এসে কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে জানান, ২০১৯ সনে এই বন্দর ৩১ লক্ষাধিক কন্টেইনার হ্যান্ডেল করেছে এবং ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম বন্দর যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংস্থা লয়েড লিস্ট রেজিস্টারের তালিকায় বিশ্বের ৬৪তম ব্যস্ত কন্টেইনার বন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
১৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেয়া এক বাণীতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, জাতীয় অর্থনীতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ এবং রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে এ বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন স্বল্প-মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্প বাস্তবায়নে বন্দর কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট সংকটময় মুহূর্তে আমদানি কন্টেইনার অফডকে প্রেরণের সিদ্ধান্ত বন্দরকে আবার সচল করেছে। আমদানিকারকরা দ্রুততম সময়ে তাদের আমদানিকৃত পণ্য খালাসের মাধ্যমে বন্দরকে করোনাভাইরাসের এই পরিস্থিতিতেও সচল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারেন। এর ফলে বর্হিবিশ্বে দেশের ও চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি উজ্বল হবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বন্দর চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম বন্দরকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সর্বাত্মক সহায়তার জন্য বন্দরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, বার্থ অপারেটর, টার্মিনাল অপারেটর, শিপ হ্যান্ডেলিং অপারেটর, সিএন্ড এফ এজেন্ট, ফ্্েরইট ফরোয়ার্ডার, বিকডা, শিপিং এজেন্ট, শ্রমিক, বন্দর ব্যবহারকারী ও স্টেকহোল্ডাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। সুত্র : দেশ রূপান্তর ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button