
চট্টগ্রামের আনোয়ারার একটি সার কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাসের সিলিন্ডারে লিকেজ পাওয়া গেছে। ওই লিকেজ থেকে সোমবার রাত থেকে গ্যাস নিঃসরণ শুরু হয়। গ্যাসের প্রভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫২ জন। মঙ্গলবার সকাল থেকে গ্যাস নিঃসরণের মাত্রা অনেক কমে গেছে। ফায়ার সার্ভিস জানাচ্ছে, আজকের মধ্যেই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে নিঃসরণ।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ডিপুটি অ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর মো. জসিম উদ্দিন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, গ্যাস নিঃসরণের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করতে বাতাসে পানি স্প্রে করা হচ্ছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর ১০-১৫ পিপিএম (পার্ট পার মিলিয়ন) পরিমাণের গ্যাস নিঃসরণ হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় এর পরিমাণ ছিলো ৬০০ পিপিএম। তিনি আশা করছেন, সন্ধ্যার আগে গ্যাস নিঃসরণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এ দিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যামোনিয়া গ্যাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের অধ্যাপক ড. তাপস দেবনাথ একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে যদি খুব বেশি গ্যাস শরীরে প্রবেশ না করে, তবে অ্যামোনিয়ার প্রভাবে জীবনের কোনো ঝুঁকি তৈরি হয় না। আর এমনিতে অ্যামোনিয়া বাতাসে বেশিক্ষণ থাকতে পারে না।’
বাতাসের সাধারণ ওজনের তুলনায় অ্যামোনিয়া গ্যাস বেশি ভারি। ফলে তা দ্রুত মাটিতে নেমে আসে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গ্যাস নিঃসরণের ঘটনা শুরু হওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রামের আনোয়ারা এলাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে অনেকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে এ ঘটনায় পুরো চট্টগ্রাম শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।




