চট্টগ্রামকে হারিয়ে শীর্ষে রাজশাহী
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিবিপিএল) দুই দলেরই শেষ চার নিশ্চিত হয়েছিল আগেই। শনিবার লিগ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হলো সেরা দুইয়ে থাকা নিশ্চিত কারার লড়াইয়ে। যে ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষে ওঠে গেল রাজশাহী রয়্যালস।
লিটন দাসের বিস্ফোরক ইনিংসে ভর করে এদিন চট্টগ্রামকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে রাজশাহী। তাতে ১২ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকল দলটি। অন্যদিকে সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে রাজশাহীকে জায়গা ছেড়ে দিয়ে দুইয়ে নেমে গেছে চট্টগ্রাম।
এদিন সন্ধ্যার ম্যাচে মুখোমুখি হবে প্লে-অফ নিশ্চিত করা অপর দুই দল খুলনা টাইগার্স ও ঢাকা প্লাটুন। তাদেরও পয়েন্ট ১৪ করে। হারা দলকে এলিমিনেটর ম্যাচ খেলতে হবে নিশ্চিত। জয়ী দল রান রেট বিবেচনায় প্রথম দুইয়ে ঠাঁই পান কিনা সেটিই দেখার। তবে যা চিত্র, তাতে চট্টগ্রামকে এলিমিনেটর ম্যাচ খেলার ‘গ্যাঁড়াকলে’ পড়তে হবে এটা প্রায় বলাই যায়। যদি না ঢাকা-খুলনা ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।
টেবিলে শীর্ষ দুইয়ে থাকা দল কোয়ালিফায়ার ম্যাচ খেলবে। এক ম্যাচ হারলেও তাদের ফাইনালে খেলার সুযোগ থাকবে। সে ক্ষেত্রে এলিমিনেটর ম্যাচে (তৃতীয় ও চতুর্থ দলের ম্যাচ) জয়ীদের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ খেলতে হবে তাদের।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে এদিন টস হেরে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৫৫ রান করে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। জবাবে ১৪ বল বাকি থাকতে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রাজশাহী।
১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে রাজশাহী ঝোড়ো শুরু পায় দুই ওপেনার লিটন দাস ও আফিফ হোসেনের ব্যাটে। লিটন ছিলেন সবচেয়ে বেশি আগ্রাসী। ওভার প্রতি ১০ করে রান তুলে প্রথম ৬ ওভারে ৬০ রান তুলে ফেলে দলটি।
১১তম ওভারে আফিফকে ফিরিয়ে ৮৮ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন নাসুম আহমেদ। ৩১ বলে ১টি করে চার ও ছক্কায় আফিফ ৩২ রান করেন।
আফিফ ফিরে যাওয়ার পর শোয়েব মালিককে নিয়ে ৫০ রান যোগ করেন লিটন। ১৬তম ওভারে জিয়াউর রহমানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। তার আগে ৪৮ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ার সেরা ৭৫ রান করেন। আসরে এটি তার তৃতীয় ফিফটি।
শোয়েব মালিক এরপর বাকি কাজ সেরেছেন। ২৫ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৪৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। আন্দ্রে রাসেল ৪ বলে ২ রানে অপরাজিত ছিলেন।
এর আগে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে ক্রিস গেইল ঝড় তুলতে পারেননি। ক্যারিবীয় ওপেনার ২১ বলে ২৩ রানে ফেরেন। আরেক ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকও ২৩ বলে ২৩ রান করেন।
তিনে নামা ইমরুল কায়েসের ব্যাট থেকে আসে ১৮ বলে ১৯ রান। তবে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও নুরুল হাসান সোহানের ব্যাটে দেড় শ পেরোয় দলটি।
সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। ৩৩ বলে খেলা তার অপরাজিত ইনিংসটিতে রয়েছে ২টি চার ও ৩টি ছক্কা। ১৭ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৩০ রান করেন নুরুল হাসান সোহান।
রাজশাহীর বোলারদের মধ্যে ১টি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ ইরফান, আবু জায়েদ রাহি, শোয়েব মালিক, আফিফ হোসেন ও তাইজুল ইসলাম।
ম্যাচসেরা হয়েছেন লিটন দাস।




