ঘিওর উওর তরা প্রাথমিক বিদ্যালয়

ঝুঁকি নিয়ে বারান্দায় চলছে পাঠদান
আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জ ঘিওর উপজেলা বানিয়াজুরি ইউনিয়নের উত্তর তরা গ্রামে প্রায় দেড় বছর আগে উত্তর তরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় স্কুলের বারান্দায় ও খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান।এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। পরীক্ষা চলাকালে ছাদের পলেষ্টার ভেঙে কোমলমতি পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হওয়ায় ওই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করে ক্লাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন কর্তৃপক্ষ ।
উল্লেখ্য,গত ২৩ এপ্রিল ২০১৫ সালে দুপুরে বিদ্যালয়ে প্রথম সাময়িকের পরীক্ষা চলাকালে ছাদের পলেষ্টার ভেঙে আহত হয়েছে কোমলমতি পাঁচ শিক্ষার্থী। আহতরা হলোÑ আশরাফুল ইসলাম (১০), সাজ্জাদ হোসেন (১১), রুবি আক্তার (১০), আঁখি আক্তার (১০) ও নুরুন্নাহার আক্তার (১১). তারা সবাই চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ১৬৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করলেও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ভবনে তালা ঝুলছে। সরজমিন পরির্দশ কালে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বারান্দায় শিশু শ্রেণী থেকে ৪র্থ শ্রেণীর পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আঃ জলিল জানান, বিদ্যালয় ভবনটি দেড় বছর আগে পরিত্যক্ত হওয়ায় নিরুপায় হয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার স্বার্থে বারান্দায় ক্লাস করাতে হচ্ছে। ভবনটির ছাদের পলেষ্টার ভেঙে পরা ও ভূমিকম্পে দেয়াল ফাটল দেখা দেওয়ায় কর্তৃপক্ষের নিকট ভার ভার লিখিত অভিযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। দূর্ঘটনার পর থেকে ভয়ে আস্তে আস্তে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের ভবন দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।
এব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দা নাজনীন আলম জানান, বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরন করা হয়েছে। অচিরেই বিদ্যালয়ের কাজ ধরা হবে বলে আশা করছি।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোঃ সাজ্জাকুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের ভবনের কনষ্ট্রাকশন ভেলিটেশন কার্যক্রম ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে।অচিরেই অনুমোদন হবে। অনুমোদন পাওয়ার সাথে সাথে কাজটি বাস্তবায়ন করা হবে।




