ঘিওরে স্ত্রীকে খুন করে নদীতে ভাসিয়ে দিল পাষণ্ড স্বামী

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জ ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাষণ্ড স্বামী সঞ্জিত কুমার ঘোষ (২৮) তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সঞ্জিতসহ ৫জনকে ঘিওর থানা পুলিশ আজ বুধবার সকালে গ্রেফতার করেছে।
ঘিওর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: হযরত আলী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ৮ বছর পূর্বে টাঙ্গাইলের, মির্জাপুর উপজেলার চানদলিয়া গ্রামের কালীপদ ঘোষের মেয়ে কল্পনা রানীর (২৪) সাথে ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী গ্রামের মৃত নারায়ণ চন্দ্র ঘোষের ছেলে সঞ্জিত কুমার ঘোষের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগেই ছিল। তাদের ৬ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে পরিবারের জন্য নতুন জামাকাপড় কিনে বাড়িতে আসে সঞ্জিত। জামাকাপড় স্ত্রীর পছন্দ না হওয়ায় উভয়ের মাঝে ঝগড়া হয়। স্বামী সঞ্জিত কুমার ঘোষ রাতে টিভি দেখতে থাকলে স্ত্রী তা বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে গভীর রাতে তাকে গলাটিপে হত্যা করে তার লাশ সিএনজি অটোরিকশায় করে নিয়ে ঘিওর পশু হাসপাতাল সংলগ্ন বেইলি ব্রিজ থেকে ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেয়।
পরদিন সোমবার সঞ্জিত তার স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছে এই মর্মে ঘিওর থানায় একটি জিডি করেন। জিডির তদন্তের একপর্যায়ে হত্যার ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়। জিডি করার পর থেকে তিনি মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে গাঢাকা দেন। তাকে নাগরপুর থানার এলাসিন গ্রামে খালার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। এই রির্পোট লেখা পর্যন্ত পুলিশ লাশ উদ্ধার করতে পারেনি।
ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রবিউল ইসলাম জানান, স্বামী সঞ্জিত কুমার ঘোষ ও তার মাকে নাগরপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তেরশ্রী থেকে তার বন্ধু নির্মল সাহা (৪০), চিত্য ঘোষ (৩৫), বদ্দো সাহাকে (৪০) আটক করা হয়। হত্যা মামলাটির রহস্য উদঘাটনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে। লাশ উদ্ধারের জোর তৎপরতা চলছে।




