ঘিওরে রঘুনাথপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের বেহাল অবস্থা

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর কমিউনিটি ক্লিনিকটি প্রতিনিয়ত বন্ধ থাকায় এলাকার অসহায় দরিদ্র জনগণ ওষুধ না পেয়ে ঘুরে যাচ্ছে। ফলে এলাকার জনগণ সুষ্ঠু চিকিৎসা পাচ্ছে না।
জানা গেছে, এ কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী গিয়াস উদ্দিন, সিএইচসিপি আব্দুল লতিফ খান এবং এফডব্লিউএ নূরজাহান বেগম কর্মরত আছেন। কিন্তু তারা অধিকাংশ সময় অফিস চলাকালীন সময়ে অনুপস্থিত থাকেন এবং মাঝে মধ্যে হাজিরা খাতায় সহি করে চলে যান। এ কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কর্মচারীদের ওষুধ পত্র সম্বন্ধে নূন্যতম ধারনা নেই। তারা রোগীদের সঠিক চিকিৎসা দিতে পারে না। ক্লিনিকে ওষুধ নিতে আসা রহিমা(২৮), রাসেল(১৮), ময়না(২০) তারা জানান, সকাল থেকে বেলা বারটা পর্যন্ত বসে আছি। কিন্তু ক্লিনিকে কোন লোকজন আসে নাই। ক্লিনিকটি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে। কিন্তু পার্শ্ববর্তী এক মুদি দোকানদার সাংবাদিকদের বলেন, আব্দুল লতিফ অফিস বন্ধ করে ওষুধ পত্র আনতে ঘিওর সদর হাসপাতালে গেছেন।
সরকার সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ব্যাপকভাবে কাজ করলেও ঘিওরে ঘটছে উল্টা ঘটনা। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এই ক্লিনিকে স্বার্থন্বেষী কর্মকর্তা/কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব অবহেলার কারনে গ্রাম পর্যায়ের অসহায় দরিদ্র লোকজন সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপর দিকে ক্লিনিকটির পার্শ্ববর্তী পূর্ববেগুন নারচীর সরকারি প্রা. বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও ওষুধ ঠিকমত পাচ্ছে না। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অফিস খোলা রাখার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ সময় সরকারি নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না। তবে, সিএইচসিপি আব্দুল লতিফ খান সাংবাদিকদের জানান, পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ সরবরাহ না থাকায় রোগীদের চাহিদা মত ওষুধ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং ওষুধ না থাকার দরুন ক্লিনিকটি বন্ধ রাখা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক জানান, এই কমিউনিটি ক্লিনিকটি কখন খোলা হয়, আর কখন বন্ধ হয় তার কোন নিয়মনীতি নেই। সঠিক তদারকি ও মনিটরিং না করায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সরকারি আইন অমান্য করছে এবং সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর আসবাবপত্র সহ চার পাশের দেয়ালে নোংড়া, শ্যাওলা পড়ে পলেস্টার উঠে যাচ্ছে। এছাড়া ক্লিনিকটির চার পাশে ময়লা আবর্জনা ও আগাছায় ভরে গেছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার লিয়াকত হোসেন জানান, রঘুনাথপুর কমিউনিটি ক্লিনিকটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। এই ক্লিনিকের কর্মকর্তা/কর্মচারীরা কখনই সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে না। এদের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা দরকার।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্র্মকর্তা ডা. পৃথ্বিশ কুমার দত্ত জানান, আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।




