ঘিওরে নাশকতা মামলায় আতঙ্কে এলাকা ছাড়া বিএনপি নেতা কর্মীরা। আটক-৩

ঘিওর, মানিকগঞ্জ,প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অর্ধশত নেতা কর্মীর নামে ককটেল বিস্ফোরণ করে হত্যা ও নাশকতা মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ২৯ নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৩০-৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ৩ জনকে আটক করে মানিকগঞ্জ কোর্টে প্রেরণ করেছে। গ্রেফতার এড়াতে এবং মামলাভুক্ত হওয়ার আশঙ্কায় এলাকা ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীরা। আটককৃতরা হলেন সিংজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাদের, উপজেলা যুবদল নেতা মোঃ রমজান আলী, মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক রুবেল । এদিকে বিএনপির জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দদের দাবি, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার বিএনপির গণসমাবেশে জনস্রোত ঠেকাতে সরকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিতে শুরু করেছে। মামলার বাদী উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মোঃ ছানোয়ার হোসেন ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক রওশন ইয়াজদানী সুমন। উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মোঃ ছানোয়ার হোসেন জানান, শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল ও সম্মেলনের প্রচার কার্যক্রম শেষে ঘিওর ফেরার পথে শিবপুর এলাকায় আসামীরা আমাদের হত্যা ও নাশকতার জন্য ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। হামলা ও আক্রমনে আমরা মারাত্মক যখম হলেও প্রাণে বেঁচে যাই। পরে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীরা পালিয়ে যায়। এ মামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর মানিকুজ্জামান, সাধারন সম্পাদক ওয়াজেদ আলী মিস্টার, বিএনপি নেতা আব্দুস সুবহান হক, আইনজীবি আব্দুল আলিম খান মনোয়ার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক জানে আলম, মীর শরিফুল ইসলাম টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক আল মামুন ভূইয়া, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক তানভীর আহমেদ সবুজ, যুগ্ন-আহবায়ক মোঃ মেহেদী হাসান সানি, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মোঃ মাসুদুর রহমান, বানিয়াজুরী ইউপি চেয়ারম্যান এসআর আনসারী বিল্টুসহ ২৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয় আরো ৩০-৩৫ জনকে। ঘিওর থানার ওসি মোঃ আমিনুর রহমান জানান, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নের অভিযোগে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এবং ১৪৩/৩২৩/৪২৭ পেনাল কোড-১৮৬০ পিসি ধারায় মামলা হয়েছে। মামলা নং-০৯। এ পর্যন্ত ৩ জন আসামী আটক করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলায় আসামি হওয়া প্রসঙ্গে বানিয়াজুরী ইউপি চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টু বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমি জনগণের বিপুল ভোটে বিজয়ী চেয়ারম্যান। জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইউনিয়নবাসীর সেবা কাজেই ব্যস্ত থাকি। আমার নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা করা হয়েছে। মামলার কারণে আমর ইউনিয়ন থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে। যার ধরুন ইউনিয়নবাসী তাদের নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরতাজ আলম বাহার দাবি করেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার বিএনপির গণসমাবেশে জনস্রোত ঠেকাতে সরকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিতে শুরু করেছে। নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা জানান। এদিকে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার এড়াতে আতঙ্কে এলাকা ছাড়া কয়েক শত নেতাকর্মী।




