ঘিওরে ধর্মীয় জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে পবিত্র ফাউন্ডেশনের গীতা শিক্ষালয়

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের ঘিওরে ধর্মীয় জ্ঞানের আলো ছড়াতে মন্দির ভিত্তিক গীতা শিক্ষালয়ের তৃতীয় শাখা উদ্বোধন করা হয়েছে । গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার বানিয়াজুরী মহাদেব মন্দিরে স্বর্গীয় চাঁনমোহন সরকার স্মৃতি গীতা শিক্ষালয়ের উদ্বোধন করা হয়। ইতিপূর্বে আরো দুটি শিক্ষালয়ে পাঠদান চলছে।
উদ্বোধন শেষে ৩টি শিক্ষালয়ের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে গীতা বই, খাতা, কলমসহ অন্যান্য শিক্ষা সামগ্রী বিতরন করা হয়। পবিত্র ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে এসব “গীতা শিক্ষালয়”।
পবিত্র ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান পবিত্র সরকারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় মহিলা সংস্থা মানিকগঞ্জ জেলার চেয়ারম্যান লক্ষী চ্যাটার্জ্জী, ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির জেলা চেয়ারম্যান দীপক কুমার ঘোষ, বাংলাদেশ চামড়া গবেষনা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.মধুসূদন সাহা, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমেশ চন্দ্র মন্ডল, স্থানীয় ইউপি সদস্য মিঠুন আনসারী, শিক্ষক মনীন্দ্র কুমার রায়, সুফল সাহা, কৃষি কর্মকর্তা শংকর পদ সাহা, পবিত্র ফাউন্ডেশনের পরিচালক গৌতম চক্রবর্তী প্রমুখ।
গীতা শিক্ষালয়ের শিক্ষক তুষ্ট মোহন রায় বলেন, ধর্মীয় শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা সনাতন ধর্মাবলম্বী শিশু ও বয়স্করা প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে মন্দির ভিত্তিক এমন শিক্ষা কার্যক্রমে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি খুশি
স্থানীয় কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অবিভাবকরা ৷ স্কুলগুলো পরিচালিত হচ্ছে উপজেলার তরা রাধা গোবিন্দ সেবাশ্রম নাট মন্দির, পুরাতন বানিয়াজুরী রথ খোলা শিব মন্দির ও বানিয়াজুরী মহাদেব মন্দিরে।
পবিত্র ফাউন্ডেশনের পরিচালক গৌতম চক্রবর্তী বলেন, উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ইতোপূর্বে এমন আধুনিক ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিলনা ৷
এসব বিষয় বিবেচনা করে উপজেলার বানিয়াজুরী এলাকার মৃত চাঁনমোহন সরকারের পুত্র পবিত্র সরকার ৩ গ্রামে চালু করেন গীতা শিক্ষালয়। শিক্ষার্থীদের যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ সামগ্রীর ব্যায় ও শিক্ষকদের সম্মানী পবিত্র ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বহন করা হয়। শিক্ষকরাও তাদের গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ধর্মীয় জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে পেরে আনন্দিত।
পবিত্র ফাউন্ডেশন ও গীতা শিক্ষালয়ের চেয়ারম্যান পবিত্র সরকার বলেন, সমাজে ধর্মীয় জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে্এ উদ্যোগ। গ্রামের শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা দিতে পারছি এটাই আমার বড় স্বার্থকতা। ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এ ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। বর্তমানে আরো কয়েকটি গ্রামে এ “গীতা শিক্ষালয়” চালুর প্রক্রিয়া চলমান। এই ফাইন্ডেশন ধর্মীয় শিক্ষা প্রসার ছাড়াও বিভিন্ন মানব সেবা ও জনহিতকর কাজে জড়িত রয়েছে।




