ঘিওরে কলেজ ছাত্রী র্ধষণ দৃশ্য ভিডিও ধারণ:মামলা করে আতংকে পরিবার

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ: র্ধষণ করে সেই দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করার অভিযোগে মামলা করেছেন মানিকগঞ্জের ঘিওরের এক কলেজ ছাত্রী। তবে ন্যায় বিচার নিয়ে আতংক ও অনিশ্চিয়তায় ভুগছে মার্স্টাস পড়ুয়া ওই ছাত্রী। ছাত্রীর অভিযোগ, স্বয়ং তদন্ত কর্মকর্তাই তাঁকে মীমাংসা করার পরার্মশ দিচ্ছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে ও চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও লেখাপড়া চালিয়ে আসা ওই শিক্ষার্থী এবং তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জরুরি কথা বলার জন্য তাঁকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায় জেলে পাড়ার শ্যামদাস রাজবংশী। ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ধারালো অস্ত্রের মুখে তাঁকে র্ধষণ করে শ্যামদাস। আর তার সহযোগী দুজন মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য ধারণ করে। কাউকে ঘটনা জানালে ইন্টারনেটে এই ভিডিও দৃশ্য ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় শ্যামদাস। ঘটনাটি গত ১৪ জুলাইয়ের।
বৃহস্পতিবার আলাপকালে ছাত্রীটি জানান, লজ্জায় বিষয়টি মা-বাবা ছাড়া কাউকে বলতে পারেননি। একর্পযায়ে সে অনুভব করে, মামলা না করলে শ্যামদাসরে কোনো শাস্তি হবে না। ঘটনার কয়েক দিন পর সে ঘিওর থানায় মামলা করতে যান। কিন্তু থানা থেকে আদালতে মামলা করার পরার্মশ দেওয়া হয়। অবশেষে গত ৪ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও র্পনোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন ওই কলেজ ছাত্রী।
আরো জানান, মামলা করার আগে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য সোহেল চৌধুরী বিচার করে দেওয়ার কথা বলে তাঁকে ডেকে ছিলেন তিনি বিচারে যাননি। তবে জানতে পেরেছেন, বিচারের নামে শ্যামদাসকে ইউপি সদস্য তাঁর বাড়িতে ডেকে নিয়ে মারধর করেছেন। শ্যামদাসের কাছ থেকে ধারণ করা ভিডিও ক্লিপটিসহ মোবাইল ফোনটিও রেখে দিয়েছেন। কিন্তু‘ ইউপি সদস্য সোহেল চৌধুরী এখন তা অস্বীকার করছেন। এ ছাড়া একটি অপরিচিত মোবাইল ফোন নম্বর থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীকে।
ইউপি সদস্য সোহেল চৌধুরী বলেন, রাস্তাঘাটে শ্যামদাস ওই মেয়েটিকে উত্যক্ত করে, এমন একটি অভিযোগ নিয়ে ওই ছাত্রী তাঁর কাছে এসেছিল। তিনি বিচার করে দিতে দুই পক্ষকে ডেকেছিলেন। কিন্তু ছাত্রী না আসায় বিচার হয়নি। পরে ছাত্রীটি ধর্ষনের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। র্ধষণের কোনো ভিডিও তাঁর কাছে নেই বলেও জানান তিনি।
মামলার তদন্ত র্কমর্কতা ঘিওর থানার এস.আই মজিবর রহমান জানান, মামলার তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি ভীষন ব্যস্ত বলে ফোনে কথা বলতে রাজি হন নি।
বৃহস্পতিবার শ্যামদাসের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। স্বজনরা জানায়, কাজে বাইরে রয়েছেন। তবে প্রতিবেশীরা জানায়, ঘটনার পর থেকে সে বাড়িতে থাকে না।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানায়, শ্যামদাস মোটা অংকের টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ঘিওর থানার ওসি মোঃ মিজানুর রহমান জানান, মামলা হওয়ায় আগে হয়তো স্থানীয়ভাবে আপোষ মিমাংসার কথা হতে পারে। সেটা আমার ভালো জানা নেই। কিন্তু এখন আর সে সুযোগ নেই।
আসামী গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।




