Uncategorized

ঘিওরে আওয়ামীলীগ নেতার বাড়িতে বেঁধে এক যুবকের ওপর নির্মম নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ : ঘিওরে এক যুবককে বাড়িতে ধরে এনে বারান্দার খুটির সাথে বেধে নির্মম নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী কয়েক নারীও মারধরের শিকার হন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গি গ্রামে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ক্যাবল ব্যবসা (ডিস) আধিপত্ত বিস্তার ও মামলা মোকাদ্দমাকে কেন্দ্র করে ঘটনাটির সুত্রপাত বলে জানান স্থানীয় লোকজন।
এলাকাবাসী জানায়, গোয়ালডাঙ্গি গ্রামে আব্দুল কাদের মিয়ার ছেলে সাইদুর এলাকায় প্রায় ২শ বাড়িতে ডিসের সংযোগ দিয়ে ব্যবসা করে পরিচালনা করে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তফা কামালের ভাই শওকতের সঙ্গে দন্ড বেধে যায়। সম্প্রতি শওকতসহ তার লোকজন সাইদুরের পিতা আব্দুল কাদেরকে মারধর করে। পরে এই ঘটনায় আব্দুল কাদের বাদি হয়ে কোর্টে শওকত, বাদল, আলিম ও হামিদ নামের চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। এর পর আব্দুল কাদের ৭ ধারায় আরো একটি মামলা করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল সকালে আব্দুল কাদেরের ভাতিজা লিটন মিয়াকে বাড়ি থেকে ধরে বেধে মারধর করা হয়।
সরজমিন ঘিওর উপজেলার গোয়ালডাঙ্গী এলাকার স্থানীয় ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোস্তফা কামালের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটি ঘিরে বিপুল সংখ্যক মানুষ। বাড়ির একটি ঘরের বারান্দায় অচেতন অবস্থায় পরে আছেন একই গ্রামের লিটন মিয়া (২৫) নামের এক যুবক। নির্যাতনের ফলে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের দাগ রয়েছে।
অপর দিকে আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তাফা কামালের বাড়ির দুই-তিন বাড়ি পরে লিটন মিয়ার বাড়ি গিয়ে দেখা গেলো বাড়ির দুই নারী সুফিয়া বেগম (৫০) ও মনোয়ারা বেগম (৩০) মাটিতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। প্রতিবেশীরা তাদের মাথায় পানি দিচ্ছেন। লিটনকে ছাড়াতে গিয়ে তারও মারধরের শিকার হয়েছেন। আহত দুই নারী সম্পর্কে লিটনের চাচী ও ভাবি। তাদের মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রেনুকা বেগম নামের এক প্রতিবেশী যার পিঠে রয়েছে আঘাতের দাগ। জানালেন, লিটনের বাড়িতে চিৎকার চেচামেচির শব্দ শুনে আমরা সেখানে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি আওয়ামীলীগ নেতা ও তার কয়েক ভাই মিলে লিটনের বাড়ি এসে তাকে মারধর ও টানহেছড়া করছে। আমরা কয়েক নারী ফিরাতে গেলে তারা আমাদের ওপরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এক পর্যায়ে আমার পিঠে লাঠি দিয়ে আঘাত করে।
প্রতিবেশী সামসুন্নাহার ও ইয়াসমিন আক্তার বলেন, বাড়ি থেকে ধরে লিটনকে নিয়ে যাওয়া হয় মোস্তফা নেতার বাড়িতে। সেখানে ঘরের বারান্দায় আড়ার সাথে বেধে মারধর করে। অচেতন দেখে আমরা লিটনের মাথায় পানি দিতে গেলে আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তাফা বাধা দেয়।
এলাকার মাতব্বর বাবর আলী জানান, লিটনের বাড়িতে ঢুকে মোস্তাফাসহ তার কয়েক ভাই যখন লিটনকে মারধর করে টেনে হিছড়ে নিয়ে যাচ্ছিল তখন আমি এগিয়ে গেলে মোস্তফা হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি এখান থেকে সরে যান।
আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তফা কামাল বলেন, লিটনকে তার বাড়ি থেকে ধরে আনা হয়নি। বরং লিটন ও সাইদুরসহ আরো কয়েকজন আমার বাসায় এসে হামলা চালিয়েছে। হাতুড়ি দিয়ে আমার ছোট ভাই বাদলকে পিটিয়েছে। আমকেও মারধর করেছে। ছোট ভাই এখন হাসপাতালে। এছাড়া ঘরে ঢুকে ডিস ব্যবসার ডিটের কাগজ ও টাকা পয়সা লুটে নিয়ে যায়।
মেস্তাফার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী আকলিমা জানান, লিটন ও তার লোকজন বাড়িতে এসে হামলা করার কারনে লিটনকে শুধু বেধে রাখা হয়েছিল।
স্থানীয় ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. কুদ্দুস বলেন, ঘটনাটি জানার পর মোস্তাফার বাড়ি ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি লিটন নামের এক য্বুক অচেতন অবস্থায় বারান্দায় পড়ে আছে। আমি বিষয়টি জানার চেষ্টা করলে ওই বাড়ির লোকজন জানিয়ে দেয় পুলিশে খবর দেয়া হয়েছে। তাই পুলিশ না আসা পর্যন্ত লিটনকে ছাড়া যাবে না।
ঘিওর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ঘটনা জানার পর পুলিশ পাঠিয়ে লিটন এবং মোস্তাফা নামের দুই ব্যাক্তিকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। দুই পক্ষের কথা শোনার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button