ঘিওরের বাঁশ-বেত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারের দ্বার উন্মোচন

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর, মানিকগঞ্জ : এবার বিশ্ব বাজারে পৌঁছে যাবে ঘিওরের প্রত্যন্ত এক গ্রামের কারিগড়দের তৈরী বাঁশ ও বেতের সামগ্রী। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে অনলাইন ভিত্তিক বাজারজাত প্রক্রিয়ার উদ্বোধন হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হামিদুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান, কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এমরান হোসেন, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ফারহিন আশরাফি, বড়টিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল আলম মোল্লা রওশন প্রমূখ।
নতুন অফিস ঘর, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, মডেম, ডিএসএলআর ক্যামেরা, রাউটারসহ অন্যান্য উপকরণ সংযোগ দেয়া হয়েছে। এখানকার বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি উন্নতমানের চেয়ার, টেবিল, ওয়ালমেট, ফ্রেম, খোল, ধামা, কাঠা, রিং, সেলেন্ডার, ফুটকাপ, টিফিনকির, নৌকা বাসকেট, সেড, পালা দাঁড়ি, টুড়ি, কুলা, ডালা, ঝুড়ি, চালুন, চাটাই মোড়া, খালোই, টুরকি, সহ হরেক রকমের নিত্য নতুন প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর পরিচিতি পাবে বিশ্ববাজারে।

সরজমিন দেখা যায়, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা বড়টিয়া ইউনিয়নে ঋষিপাড়া গ্রামে ২শতাধিক পরিবারের বসবাস। গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই বাঁশ ও বেতের তৈরী হস্তশিল্পের কারিগড়। প্রায় ৪ শ বছর ধরে এ পেশার সাথে জড়িত। কিন্তু অনগ্রসর মানুষের তৈরি করা এসব পণ্যের স্থানীয় বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে এ শিল্পে ভাটা পড়ে। অনেকের অনীহায় অন্য পেশায় ঝুঁকেছেন। ফলে দিন দিন কমে আসছিল শিল্পটির সঙ্গে জড়িত কারিগড়দের সংখ্যা।
ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী এই কুটির শিল্পকে রক্ষার পাশাপাশি শিল্পটির সঙ্গে সংশিষ্টদের কর্মসংস্থানকে আর্ন্তজাতিক বাণিজ্যিক রূপদান করার জন্য এগিয়ে আসেন উপজেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফের নির্দেশক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুর রহমান এই শিল্প রক্ষার্থে ও তাঁদের উৎপাদিত কুটির সামগ্রী অনলাইনভিত্তিক বিশ্ববাজারজাত করনে নেন কয়েকটি পাইলট প্রকল্প। দেয়া হয় অনলাইন ভিত্তিক বাজার তৈরির ডিজিটাল সামগ্রী। এছাড়াও এসব কুটির শিল্পে জড়িদের নিয়ে একটি সমবায় সমিতি গঠন করা হয়েছে।
ঘিওর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. হামিদুর রহমান জানান, বাঁশ-বেত শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা তাদের পণ্যের সঠিক দাম পাচ্ছে না। কারণ দেশীয় ও বৈদেশিক বাজারগুলো মধ্যস্বত্বভোগীদের দখলে রয়েছে। অনলাইভিত্তিক তাঁদের পণ্যের বিশ্ব বাজারজাতের পথ উন্মোচিত হলো।
এ পেশার সঙ্গে জড়িত হরিদাস জানান, নিজেদের বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখতে ঘিওরের বাঁশ-বেত শিল্পের সঙ্গে কয়েকশো পরিবার জড়িত রয়েছে। তবে বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি করা পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে তারা দিন দিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। সরকারী এমন উদ্যোগে তারা নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন।
চন্দ্র সরকার, সুবল সরকার নামের কারিগড়রা বলেন, প্রশাসনের মাধ্যমে বাজার সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ ও পণ্যের মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়ন করার আশ্বাসে আমরা খুশি। দীর্ঘদিনের আমাদের এই ঐতিহ্য রক্ষা হলো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা হামিদুর রহমান বলেন, উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নে বাঁশ-বেত শিল্পের সঙ্গে জড়িত ২০০ পরিবারকে এ পাইলট প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। বাঁশ বেত শিল্প সমবায় সমিতির সদস্যদের মাঝে ডিজিটাল পণ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। তাই তাদের উৎপাদিত পণ্যের অনলাইন ভিত্তিক বিশ্ব বাজারে প্রদর্শিত করতে পারবেন।
উপকারভোগীরা বলেন, এতদিন আমরা বিনিয়োগ করে বা ঋণ নিয়ে পণ্য উৎপাদন করলেও সঠিক দাম না পাওয়ার কারণে হতাশায় ছিলাম। বর্তমানে আমরা ডিজিটাল সামগ্রী পেয়েছি সেগুলো ব্যবহার করে আমরা আমাদের পণ্যের অনলাইন বাজার সৃষ্টি করতে পারব। এখন আমাদের ঋণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। সমবায় সমিতির মাধ্যমে আমরা নিজেরাই সঞ্চয়ের কাজ শুরু করেছি। এখান থেকে আমরা বিনিয়োগ করব। নিজেদের স্বপ্ন নিজেরাই বাস্তবায়ন করবো।




