
বিশ্বব্যাপী করোনার মহামারীতে সবাই আজ ঘরবন্দি। বিশেষ করে যাদের ঘরে স্কুলপড়ুয়া ছোট বাচ্চা রয়েছে তারা বাচ্চাদের বিভিন্ন কার্যকলাপের মাধ্যমে তাদের ব্যস্ত রাখতে পারেন। এতে বাচ্চারা যেমন হাসিখুশি থাকবে তেমনি তাদের মানসিক বিকাশও চলবে সঠিক গতিতে। বিশেষ করে এই অবরুদ্ধের এই সময়ে বিভিন্ন রকম বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা হতে পারে আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য একটি ভালো মাইলফলক।
এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো যেহেতু একটি দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকতে হচ্ছে তাই এই দিনগুলোকে অবশ্যই একটি রুটিনের আওতায় থাকা উচিত। কেননা নিয়মিত রুটিনের বাইরে অভ্যস্ত হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে রুটিনের ভেতরে আসাটি বাচ্চাদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে যেতে পারে।
তাই অভিভাবক হিসেবে আপনার প্রথম কাজ হতে পারে বাড়িতে স্কুলের মতো একটি রুটিনের ছক তৈরি করে ফেলা। কাজটিকে মনে মনে না করে একদম কাগজ-কলম নিয়ে ছক করে করলেই সঠিক ফলাফলটি পাওয়া যাবে।
শুরুতে একদম দৈনন্দিন জীবনের মতোই একটি রুটিন তৈরি করে নিন। যেমন সাধারণত সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য কখন ঘুম থেকে ওঠা হয় এবং কখন নাস্তা করা হয় ঠিক সেই সময়টাতেই ঘুম থেকে উঠে এবং বাচ্চাকে নাস্তা করান। স্কুলের কোন কোন সময়গুলোতে বিরতি থাকে এবং দুপুরের খাবারটি কোন সময় দেওয়া হয়। এভাবে স্কুলের মতো করে বাঁচার একটি রুটিন প্রতিদিন পালন করুন যেন আপনার বাচ্চার ভেতর দৈনন্দিন নিয়মানুবর্তিতা অভ্যাসটি বজায় থাকে।
এরপর খেলার জন্য নির্ধারিত সময় করে দিন। খেলার ক্ষেত্রে আপনার বাচ্চার ভেতরে বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক খেলার প্রতি অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং নিয়মিত সেগুলো খেলার ব্যবস্থা করে দিন। অনেক বাচ্চা ছবি আঁকতে বেশ পছন্দ করে। তাদের ঘরের ভেতরে বিভিন্ন জিনিসের ছবি আঁকতে উৎসাহিত করুন আবার জানালার ধারে বসে বিভিন্ন দূর-দূরান্তের প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবিও আঁকতে পারে। আপনার বাচ্চাকে তার খেলনাগুলো নিজেকে পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে তার ভেতরে পরিচ্ছন্ন থাকার একটি অভ্যাস তৈরি হয়ে যাবে।
বাড়িতে বিল্ডিং ব্লক বা এ ধরনের কোনো খেলনা থাকলে সেগুলো দিয়ে বাচ্চাকে বিভিন্ন ধরনের আকৃতি বানাতে দিন। আবার ঘরে বিভিন্ন জিনিসের নাম অসম্পূর্ণভাবে দেয়ালে লিখে সেই হারানো শব্দটি কাগজে লিখে সেই জিনিসের ভেতর সেটাকে রেখে বাচ্চাকে বলতে পারেন সেগুলো পূরণ করতে। যেমন ‘টেবিল’ শব্দটি অসম্পূর্ণ লিখে তার হারানো শব্দটি একটি কাগজে লিখে সেটাকে টেবিলেরই কোথাও রেখে বলতে পারেন এভাবে পূরণ করতে।
এছাড়া প্রতিদিনই একটি করে অরিগ্যামি তৈরি করাতে পারেন। এতে করে বাচ্চার ভেতরের ত্রিমাত্রিক ধারণাগুলো অনেক পরিষ্কার হবে। ইন্টারনেটেও বাচ্চাদের অনেক ভালো ভালো ওয়েব সাইট রয়েছে। সেগুলো সার্চ করেও পেতে পারেন ভালো ভালো আইডিয়া।
সবশেষে এই সময়ের ভেতরে আপনার সন্তানের ভেতরে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শুধু পাঠ্যপুস্তক নয় এর বাহিরে বিভিন্ন বিষয়ে পড়তে আগ্রহী করে তুলুন। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে আপনার সন্তানকে নিয়ে বসে কোনো একটি বিষয় নিয়ে বক্তব্য দিতে পারেন। এতে তার ভেতরে বিভিন্ন বিষয়ে জানার প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে। সন্তানটি আপনার তাই তার ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্বটিও আপনার।




