গোবিন্দগঞ্জে খুন করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের মুল হোতাসহ আটক ৩, অটোরিকশা উদ্ধার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গত সেপ্টেম্বর মাসের ১২ তারিখে শাখাহার ইউপির নুনু মিয়ার স্বামী পরিত্যক্তা বোনের ছেলে নাবালক দিলবর(১৬) পারিবারিক অভাব অনটনের কারণে প্রতি দিনের ন্যায় তার মামার কিনে দেয়া অটোরিকশা নিয়ে দু-পয়সা রোজগারের জন্য বিকেল অনুঃ ৪টায় বাড়ি হতে বের হয়।কিন্তু রাত ৮টা পর্যন্ত দিলবর বাড়ি না ফিরলে তার পরিবারের লোকজন রাতে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে ব্যর্থ হয়। কিন্তু নিয়তির কি পরিহাস পরের দিন ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে ঐ দরিদ্র পরিবারের নাবালক ছেলেটিকে শাখাহার ইউপির আসাদ মোড় হতে ইসলামপুর রাস্তা সংলগ্ন নিরিবিলি ধানক্ষেত গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে মৃতদেহ ফেলে রেখে তার অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। এঘটনার পর গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা হলেও পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমে একাধিক সন্দিগ্ধ ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞেসবাদ করেও যখন কোন কুল-কিনারা করা যাচ্ছিলোনা ঠিক সেই মুহূর্তে পুনরায় ঐ চক্রের মুল হোতা মনোয়ার হোসেন (৩৫) পিতা মমতাজ আলী সাং পারইল দক্ষিণপাড়া(গনার) থানা গোবিন্দগঞ্জ এবার টার্গেট করে তারই প্রতিবেশী আর এক নাবালক ছেলে জাহিদ(১৪) পিতা মোবারক সাং পারইল দক্ষিণপাড়া (গনার) কে।ঘাতক মনোয়ার গত ৬ অক্টোবর সকাল হতে পরিচয় সূত্রে জাহিদের অটোরিকশা ভাড়া নেয়ার জন্য কয়েক বার মোবাইল করে।সেই অনুযায়ী ভিকটিম জাহিদ সরল বিশ্বাসে ঐ দিন সন্ধ্যা অনু ৬টার সময় শহরগাছি চারমাথা এলাকা হতে ঘাতক মনোয়ার কে রিকশায় উঠিয়ে নেয়। ঘাতক মনোয়ার সময় নষ্ট করার জন্য জাহিদের অটোরিকশা নিয়ে প্রথমে দিঘিরহাট এলাকায় এসে চা-নাস্তা খায়।এবং মনোয়ার জাহিদের কাছে থেকে ২০ টাকা ধার নিয়ে নাস্তার বিল পরিশোধ করে। এরপর মনোয়ার জাহিদ কে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সময় অতিবাহিত করে রাত অনুঃ ৮টার সময় রোয়াগাও-শাখাহার গ্রামের মাঝে ফাকা মাঠে নিয়ে গিয়ে জাহিদ কে রিকশার আলো বন্ধ করতে বলে। এবং ঘাতক মনোয়ার তার বন্ধু তথায় আসবে বলে সুযোগের অপেক্ষা করতে থাকে।নাবালক জাহিদ সৎ বিশ্বাসে তথায় অপেক্ষার এক ফাঁকে ঘাতক মনোয়ার পিছন থেকে জাহিদের গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত মনে করে জাহিদের মৃতদেহ রাস্তার পাশে ধানক্ষেতের মধ্যে ফেলে রেখে অটোরিকশা,জাহিদের সাথে থাকা মোবাইল ফোন ও ভাড়া খাটার ১’শত টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু আল্লাহর অসীম কুদরতে জাহিদ মারা না গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে জ্ঞান ফিরে পেয়ে অনুমান ৩/৪ শত গজ দুরে তার অটোরিকশা রিকশার পিছনের আলো দেখে বুঝতে পারে মনোয়ায় অটোরিকশা টি নিয়ে কোন দিকে যাচ্ছে। তখন জাহিদ অসুস্থ অবস্থায় অটোরিকশা রিকশার পিছনে চিল্লাতে চিল্লাতে দৌড়াতে থাকে।জাহিদের চিৎকারে গ্রামের লোকজন চতুর্দিকে থেকে বেড়িয়ে আসলে ঘাতক মনোয়ার ধরা পরার ভয়ে পথিমধ্যে অটোরিকশা ফেলে রেখে ধানক্ষেতের মধ্যে আত্নগোপন করে।পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে স্হানীয় এলাকাবাসীর সহায়তা মনোয়ার খোজাখুজি করে ধরতে সাময়িক ব্যর্থ হলেও প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘাতক মনোয়ারের মোবাইল ফলো করে কখনো শিবগঞ্জ কখনো মহাস্থান কখনো পাঁচবিবির বিভিন্ন হাট-বাজারে তল্লাশি করে গতকাল ৭ অক্টোবর রাত অনুঃ ৭ টায় কালাই থানা সীমানা সংলগ্ন এলাকা হতে আটক করা হয়। এ সময় তার নিকট হতে ভিকটিম জাহিদের মোবাইল টি উদ্ধার হয়।
এরপর মনোয়ার কে গোবিন্দগঞ্জ থানায় নিয়ে এএসপি পলাশবাড়ী সার্কেল মহোদয়ের নেতৃত্বে ওসি গোবিন্দগঞ্জ থানা, ইন্সপেক্টর তদন্ত, ইনচার্জ বৈরাগীহাট তদন্ত কেন্দ্র,এসআই সেকেন্দার ও এসআই বাবলুর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল রাতব্যাপি জিজ্ঞেসবাদ করে। জিজ্ঞেসাবাদের একপর্যায়ে ঘাতক মনোয়ার নৃশংস ভাবে নাবালক দিলবরকে হত্যাকরে তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা স্বীকার করে। এবং মনোয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী ছিনতাই কৃর্ত অটোরিকশা বিক্রয়ের সহযোগি তার খালাতো ভাই আসামি ১) মিন্নাছ আকন্দ (৩৮) পিতা কাদের ও ২) চন্দন মহন্ত (৪৫) পিতা মৃত মহেন্দ্র মহন্ত উভয় সাং শাহপাড়া খলশী থানা গোবিন্দগঞ্জ দ্বয় কে ৭ অক্টোবর রাতেই নিজ বাড়ি হতে আটক করা হয়। তারা জিজ্ঞেসাবাদে জানায় দিলবরকে হত্যা করার পরেরদিন ঘাতক মনোয়ার অটোরিকশাটি নিয়ে পীরগন্জ এলাকায় যাবার পথে কালিতলা এলাকায় অটোরিকশাটির চার্জ শেষ হয়।তখন মনোয়ার আসামি মিন্নাছ কে বিষয় টি জানালে আসামি মিন্নাছ অপর অটো চালক চন্দনকে বেশি টাকার লোভ দেখিয়ে চন্দনের অটো নিয়ে মিন্নাছ কালিতলা এলাকায় পৌঁছে।এবং ছিনতাইকৃত অটো টি চন্দনের অটোর সাথে বেধে ৩ জন মিলে পীরগন্জ থানাধীন সয়েকপুর গ্রামের চোরাই অটোরিকশা বিক্রেতা আমিনুলের নিকট হস্তান্তর করে ৭ হাজার গ্রহণ করে। উপরোক্ত তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল ৭ অক্টোবর রাতেই অভিযান চালিয়ে পীরগঞ্জ এলাকা হতে দিলবরকে খুন করে ছিনিয়ে নেয়া অটোরিকশা টি উদ্ধার করা হয়। আসামি মনোয়ার, মিন্নাছ ও চন্দন দের কে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করনের জন্য অদ্য ৮ অক্টোবর গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।



