
গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি)-তে ‘উইন্টার ২০২৫’ টার্মে এমএস ও পিএইচডি প্রোগ্রামে নবভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক প্রাণবন্ত অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রথিতযশা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নাইজেরিয়া থেকে আগত একজন পিএইচডি শিক্ষার্থীসহ মোট ২৪৯ জন এমএস ও ৫ জন পিএইচডি শিক্ষার্থী—সব মিলিয়ে ২৫৪ জন শিক্ষার্থী এ অরিয়েন্টেশনে অংশ নেন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে ফুল দিয়ে নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হান। এছাড়া বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ আবদুল্লাহ্ মৃধা গাকৃবির একাডেমিক ঐতিহ্য, গবেষণাভিত্তিক অগ্রযাত্রা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন। পরে এক প্রাণবন্ত পরিচিতি পর্বে শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্বপ্ন, আগ্রহ ও গবেষণার লক্ষ্য তুলে ধরেন।
নবাগত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এমএস শিক্ষার্থী উমানা হোসাইন দোলনা, পিএইচডি শিক্ষার্থী মোঃ রাশিদুল ইসলাম এবং নাইজেরিয়ার পিএইচডি শিক্ষার্থী বেদি ইব্রাহিম তাঁদের অনুভূতি ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন। আবাসিক হল ব্যবস্থাপনা ও নিয়মকানুন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ তোফাজ্জল ইসলাম উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার কাঠামো, নীতিমালা এবং সম্ভাব্য গবেষণা ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
ভাইস-চ্যান্সেলরের বক্তব্য অনুষ্ঠানের অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। তিনি বলেন, “জীবনের লক্ষ্য সুপ্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে এমএস ও পিএইচডি ডিগ্রির গুরুত্ব অপরিসীম। তোমাদের গবেষণালব্ধ ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়কে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি দেশের কৃষিখাতের টেকসই উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের কঠোর অধ্যবসায়, নিয়মানুবর্তিতা ও কর্তব্যপরায়ণতার মাধ্যমে জ্ঞানচর্চাকে মানবকল্যাণে নিবেদিত করার আহ্বান জানান।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। নতুন স্বপ্ন, নতুন দায়িত্ব এবং গবেষণার অঙ্গীকার নিয়ে গাকৃবির উইন্টার ২০২৫ ব্যাচ যাত্রা শুরু করল—কৃষি ও জাতির অগ্রযাত্রায় জ্ঞাননির্ভর অবদান রাখার প্রত্যয়ে।




