শিরোনাম

গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি : পানি বন্দি মানুষদের চরম দুর্ভোগ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : টানা বর্ষণ আর উজানের পানিতে তলিয়ে গেছে গাইবান্ধার পাঁচ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। পানির নিচে শহর-গ্রাম, হাসপাতাল-মহাসড়ক। ডুবে গেছে ফসলের মাঠ। পানিতে ভেসে গেছে পুকুর ও খামারের মাছ।গোবিন্দগঞ্জ, সুন্দরগঞ্জ ও পলাশবাড়ীতে ভেঙেছে বাঁধ। সবমিলিয়ে গাইবান্ধায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ফুলে ফেঁপে উঠেছে জেলার সব নদ-নদী। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদীর পানি দুই দশকের রেকর্ড ভেঙ্গে বিপদসীমার ১১৬ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের প্রায় ১০০টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।পানি বন্দি হয়েছে ৫০ হাজার মানুষ। ঘর-বাড়ীতে পানি উঠায় শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩টি অংশ বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় গোবিন্দগঞ্জ থানামোড় থেকে দিনাজপুর সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বন্যার পানি ওঠায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।হাসপাতালে চলাচলে দেখা দিয়েছে দুর্ভোগ।এদিকে ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যার কবলে পড়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ও সর্বানন্দ ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নিম্নাঞ্চল তলিয়ে এখন উঁচু এলাকায় প্রবেশ করছে পানি। উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ সাহাবাজ (মতিন বাজার) গুচ্ছ গ্রামে স্থানীয়দের নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধ্বসে গিয়ে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। ভেসে গেছে সহস্রাধিক পুকুর ও মৎস্য খামারের কোটি টাকার মাছ। এছাড়া পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নে টোংরারদহ এবং সুলতানপুর বড়বাড়ী নামক স্থানে করতোয়া নদীর উপর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে বন্যায় প্লাবিত হয়েছে উপজেলার কিশোরগাড়ি ও হোসেনপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। অপরদিকে ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা, রসুলপুর, কামারপাড়া এবং সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় করতোয়া নদীর পানি ১১৬ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি ২৬ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি ৫ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তিস্তার পানি এখনও বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ২হাজার ৭৮০ হেক্টর জমির আমনধান, ২১০ হেক্টর জমির শীতকালীন শাকসবজি সহ প্রায় তিনহাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।এদিকে বন্যার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩টি অংশ বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশংকায় বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গোবিন্দগঞ্জ থানামোড় হয়ে চলাচলকারী সকল প্রকার ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রুবেল সরকার নিশ্চিত করেছেন।অপরদিকে উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ফতেউল্ল্যাপুর শ্যামপুর গ্রামে বাঁধের মাটি কেটে বাঁধ সংস্কারের অভিযোগ পাওয়া গেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। ফলে ঝুঁকির মুখে পড়েছে ওই এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রন কার্যক্রম। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, বাঁধের মাটি কাটার বিষয়টি আমি জানি, পানি কমে গেলে ঠিকাদার ওই স্থানের মাটি ভরাট করে দেবে।এদিকে ঘাঘটের অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বামনডাঙ্গা ও সর্বানন্দ ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ চারদিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও সরকারি কোন সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ বানভাসিদের। এমনকি জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানালেও কেউ তাদের খোঁজ খবরও নেয়নি। এতে অনাহার-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন বন্যার্তরা। বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সঙ্কট দেখা দেয়ায় চরম বেকায়দায় রয়েছেন তারা।অপরদিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় বাঁধ ভেঙ্গে বন্যায় প্লাবিত দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) সকালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও দলীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদকও গাইবান্ধা-৩ (সাদল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট স্মৃতি দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের উদ্বোধন করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button