গল টেস্টে বিশাল জয় ভারতের

ভারতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নিয়েই এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন রবি শাস্ত্রী। কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে প্রথম টেস্টেই পেলেন জয়ের স্বাদ। পাশাপাশি যে গলে শ্রীলঙ্কাকে হারানো ছিল সবচেয়ে কঠিন সেখানেই আজ সিরিজের প্রথম টেস্টে তাদের পর্যূদস্ত করল ভারতীয় দল।
২৩ বছরের গাঁট কাটিয়ে ২০১৫-তে শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সিরিজ জিতেছিল বিরাট কোহলির টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু গলে জয় অধরাই থেকে গিয়েছিল। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে গল বরাবর শক্তিশালী দুর্গ। তাই এবার বিরাটদের লক্ষ্য ছিল গলের বাইশ গজে লঙ্কাবধ। আর ৩০৪ রানে হারিয়ে সেই কাজই বেশ ভালোভাবেই সম্পন্ন করল টিম ইন্ডিয়া। সেই সঙ্গে তিন টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেন বিরাটরা।
তবে ম্যাচ শেষের পরেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এই রকম নখ-দন্তহীন শ্রীলঙ্কান দলকে বাগে পেয়েও কেন ফলো-অন করালেন না বিরাট কোহলি। শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছিল ২৯১ রানে। অর্থাৎ বিরাটরা লিড পেয়েছিল ৩০৯ রানের। তবুও তাদের দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে পাঠাননি বিরাট। উলটে ব্যাট করতে নামে ভারতীয় দল। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত বিরাটের?
বিশেষজ্ঞ মহলের ধারনা, ভারত অধিনায়কের সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে না পারার জন্যই দ্বিতীয় বার ব্যাট করতে নামে টিম ইন্ডিয়া। এর আগেও এমনটা বেশ কয়েকবার ঘটেছে। এছাড়া ভেসে আসছে আরো একটি জল্পনা। কেউ কেউ বলছেন, অফ ফর্মে থাকা বিরাট নিজে যাতে ব্যাট করার সুযোগ পান, সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গল টেস্টের চতুর্থ দিনেই বিরাট শতরান করেছেন। তারপরই নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস ডিক্লেয়ার দেয় ভারত। ২০১৪ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির থেকে নেতৃত্ব নিয়েছিলেন নিজের কাঁধে। তারপর থেকে সাতবার বিপক্ষকে ফলো-অন খাওয়ানোর সুযোগ এসেছিল। যার মধ্যে পাঁচবারই সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি তিনি। যদিও এই সমালোচনাকে দূরে ঠেলে জয় নিয়েই ভাবতে চাইছে ভারতীয় দল।
এদিন দ্বিতীয় ইনিংসে তিন উইকেটে ১৮৯ রান থেকে খেলা শুরু করে ভারত। তবে বিরাটের শতরানের পরই ২৪০ রানে নিজেদের ইনিংস ডিক্লেয়ার দেয় তারা। ৫৫০ রানের বিশাল রানের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কার সামনে।
এদিকে, টেস্টের প্রথম দিনই শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার গুণারত্নে চোট পেয়ে ছিটকে যান। আর এদিন চোট পাওয়ায় ব্যাট করতে পারলেন না অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথও। ফলে মাত্র ২৪৫ রানেই শেষ হয়ে গেল শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন ওপেনার করুণারত্নে। তার সংগ্রহ ৯৭ রান। ডিকওয়েলা (৬৭) এবং কুশল মেন্ডিসকে (৩৬) সঙ্গে নিয়ে লড়াই করলেও সেটা অবশ্য ভারতের জয় আটকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। হাসতে হাসতেই ম্যাচ করে নিলেন বিরাট অ্যান্ড কোং।
ভারতের হয়ে জাদেজা ও অশ্বিন দু’টি করে উইকেট পেয়েছেন। অন্যদিকে, এদিন রেকর্ড করলেন বাংলার উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ঋদ্ধিমান সাহা। নিজের টেস্ট কেরিয়ারের ৫০তম ক্যাচটি ধরলেন ঋদ্ধি।
এর আগে মহেন্দ্র সিং ধোনি, সৈয়দ কিরমানি, কিরণ মোরে, নয়ন মোঙ্গিয়া, ফারুখ ইঞ্জিনিয়ার এবং পার্থিব প্যাটেল এই কীর্তি অর্জন করেছেন।




