
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: গণসংহতি আন্দোলনের দলীয় প্রধানের পদ ছেড়েছেন জোনায়েদ সাকি। দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রখ্যাত কৃষকনেতা দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু।
আজ শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত জানান জিএসএর নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। দলীয় প্রধান ও সরকারের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একইসাথে পালন না করার নীতিগত জায়গা থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আবুল হাসান রুবেল বলেন, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর আদর্শকে অনুসরণ করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সংগঠনের পৃথকীকরণের নীতি অনুসরণ করে আমরা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি জানান, দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের ২৯ আগস্ট জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বেশ কয়েকটি গণসংগঠনের ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে গণসংহতি আন্দোলন যাত্রা শুরু করেছিল। এরপর থেকে বাংলাদেশের মানুষের প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামে, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সম্পদ রক্ষার লড়াইয়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে গণসংহতি আন্দোলন।
২০১৫ সালে দলের তৃতীয় জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলন থেকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের বৃহত্তরও ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে নতুন ভাবে যাত্রা শুরু করে গণসংহতি আন্দোলন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে জিএসএর ৫ম জাতীয় সম্মেলনে ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচিত হয় যেখানে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নির্বাচিত হন জোনায়েদ সাকি।
দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে সংগঠন ও দল হিসেবে গণসংহতি আন্দোলনকে বিকশিত করার পাশাপাশি জোনায়েদ সাকি এই সময়কালে বাংলাদেশের গণমানুষের স্বার্থ ও জনগণের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সকল আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে জনগণের সামনে পরিচিত হয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি, গণসংহতি আন্দোলনসহ যুগপৎ আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচনে জয়লাভ করেন জোনায়েদ সাকি। পরবর্তীতে বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত সরকারে অংশ নিয়ে বর্তমানে তিনি সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইসাথে তিনি বরিশাল জেলার সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু ১৯৫৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে কিশোর বয়সে অংশ নেন ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বরিশালের পেয়ারা বাগানে যুদ্ধ করেন তিনি।
বরিশাল অঞ্চলে শ্রমিক-কৃষকের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু। বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, খুলনা, বাগেরহাট অঞ্চলে শ্রমিক-কৃষকদের সংগঠিত করতে নিরলসভাবে কাজ করেন তিনি। শ্রমিক রাজনীতির জন্য ১৯৭৫ সালে কারাবরণ করে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত জেলবন্দি ছিলেন তিনি। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সাথে যুক্ত হয়ে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু। ২০০৬ সালে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এই সংগঠনের। ২০০৯ সালে গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টিতে যোগদান করেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু। এসময় থেকেই গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলনের মধ্যে ঐক্য আলোচনা চলমান ছিল। পরবর্তীতে ২০১০ সালে গণসংহতি আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি একীভূত হয়ে গণসংহতি আন্দোলন নামে ঐক্যবদ্ধ হয়।
২০১৬ সালে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্মেলনের দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু। পরবর্তীতে ২০২১ সালে দলের ৪র্থ ও ২০২৫ সালে ৫ম জাতীয় সম্মেলনে রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে পুননির্বাচিত হন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার, হাসান মারুফ রুমী, মনির উদ্দীন পাপ্পু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বাচ্চু ভুইয়া, দীপক কুমার রায়, তরিকুল সুজন, লুভানা তাবাসসুম, আমজাদ হোসেন, আলিফ দেওয়ান, মনিরুল হুদা, মুনীর চৌধুরী সোহেল, জাহিদ সুজন, রেক্সোনা পারভীন সুমি, রুবিনা ইয়াসমিন, বেনু আক্তার, আরিফুর রহমান মিরাজ, লুতফুন্নাহার সুমনা, জাহিদুল আলম আল জাহিদ, সাইফুল্লাহ সিদ্দিক রুমন, তাহসিন মাহমুদ, আবু রায়হান খান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নাজার আহমেদ, কেন্দ্রীয় পরামর্শক কমিটির সদস্য ইমরাদ জুলকারনাইনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।




