
পতাকা ডেস্ক : দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংক ‘লোপাট’ ও অর্থ পাচারের প্রতিবাদে সচিবালয় অভিমুখে গণতন্ত্র মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিলে এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে গণতন্ত্রের মঞ্চের সমন্বয়ক ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন দাবি করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন কর্মীকে আটক করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টের কাছে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙতে চাইলে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমবেত হন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংক ‘লোপাট’ ও অর্থ পাচারের প্রতিবাদে সচিবালয়ে অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় এই সমাবেশে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের হাবিবুর রহমান রিজু, জেএসডি’র তানিয়া রব প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বেলা ১২টা ৪৭ মিনিটে সমাবেশ শেষ করে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করে সচিবালয় অভিমুখে রওনা হয়। মিছিলের অগ্রভাগে মাহমুদুর রহমান মান্না, সাইফুল হক, জোনায়েদ সাকিসহ মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতারা ছিলেন। সচিবালয়ের সড়কের মুখে পুলিশের ব্যারিকেডের কাছে নেতাকর্মীরা এসে বিক্ষোভ করতে থাকে। কয়েক মিনিটের মধ্যে কর্মীরা ব্যারিকেড ঠেলাঠেলি করে সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশ হুইসেল বাজানো এবং লাঠি দিয়ে কর্মীদের সরিয়ে দিতে চাইলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পরে পুলিশ ব্যারিকেডের সামনে এসে এলোপাতাড়িভাবে লাঠিপেটা শুরু করে। এ সময়ে জোনায়েদ সাকিসহ বেশ কিছু কর্মী রাস্তায় পড়ে যান।
পুলিশের লাঠিপেটায় বিক্ষোভ মিছিল পণ্ড হওয়ার পর সাইফুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকে গণতন্ত্র মঞ্চের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর পুলিশ কীভাবে লাঠিচার্জ করেছে তা আপনারা (সাংবাদিকরা) দেখেছেন। কোনো উস্কানি ছাড়া পুলিশ আমাদের বিক্ষোভে হামলা চালিয়েছে, লাঠিচার্জ করেছে। এই হামলা ও লাঠিচার্জে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা জোনায়েদ সাকিকে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে। সকলের সামনে পুলিশ তাকে লাঠিপেটা করেছে, অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের পুলিশ লাঠিপেটা করেছে। এই ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই, আমরা প্রতিবাদ জানাই। যে পুলিশ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে আমরা সেই পুলিশ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি। সাইফুল হক আরও বলেন, আমরা সরকারকে বলতে চাই, হামলা-আক্রমণ করে অতীতে যেমন কোনো স্বৈরাচার শেষ রক্ষা করতে পারেনি, বর্তমান ফ্যাসিবাদী ভোটবিহীন এই সরকারও হামলা-আক্রমণ করে শেষ রক্ষা করতে পারবে না।
আহত জোনায়েদ সাকি বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপরে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। আপনারা সব দেখেছেন। বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আমার ওপর লাঠিচার্জ করেছে। আমাদের কর্মীদের ওপর তারা বেপরোয়া লাঠিচার্জ করেছে, অনেকে জখম হয়েছে। আমি এই ঘটনার নিন্দা জানাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের এডিসি শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম বলেন, উনাদের কর্মসূচি ছিল। এখানে এসে তারা অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যারিকেড ভেঙে কেপিআই এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করলে আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে শাহ আলম জানান। তবে ঠিক কতোজন আটক হয়েছেন, বা তাদের নাম পরিচয় কী, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু তিনি বলতে পারেননি। এডিসি জানান, পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা লাঠিসোটা ছুড়ে মারে এবং পুলিশ সদস্যদের লাঞ্ছিত করে। পুলিশের কতোজন আহত হয়েছে তা পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।


