
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা ডিভিশনে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউর রহমানকে ঘিরে একাধিক অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারির অনাপত্তি পত্র, ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র, নকশা অনুমোদন এবং প্লট বা ফ্ল্যাট হস্তান্তরের মতো সেবা পেতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব সেবা পেতে ঘুষ হিসেবে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, উপসহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে আসা জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক প্রভাব ও বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করেই তিনি এসব বিতর্ক এড়িয়ে গেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, জমি ও বাড়ির তথ্য সামনে এসেছে, যার উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হেমায়েতপুর, উত্তরা দক্ষিণখান, খুলনা বয়রা হাউজিং এস্টেট এবং মাগুরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় তার নামে ও বেনামে উল্লেখযোগ্য সম্পদ রয়েছে।
এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারদের বিল পরিশোধে কমিশন আদায়, অফিসে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। খুলনা ডিভিশনের বিভিন্ন হাউজিং এস্টেটে সেবা নিতে আসা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, “অঘোষিত ফি” ছাড়া কোনো কাজ এগোয় না।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানা গেছে। এ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ না করার অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি একটি আবাসন প্রকল্পের ইউরোপ সফরে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে তার অংশগ্রহণকে অনৈতিক বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, এসব অভিযোগের কারণে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ভেতরেও অসন্তোষ বাড়ছে বলে জানা গেছে। অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, প্রভাবশালী একটি চক্রের কারণে সৎ কর্মকর্তারা সঠিকভাবে কাজ করতে পারছেন না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে তা স্পষ্টভাবে জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন তারা।



