খুনের আসামি সংসদে: খোঁজ পায়না পুলিশ

টাঙ্গাইল- ৩ আসনের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান রানাকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগেরই আরেক নেতাকে খুনের অভিযোগ আছে। ওই মামলায় তিনি চার্জশিটভুক্ত আসামী। পুলিশ খুঁজে না পেলেও সাংসদদের হাজিরা খাতায় ঠিকই সই করেছেন তিনি!
গত সোমবার (২০ জুন) সংসদের চার নম্বর লবিতে রাখা হাজিরা খাতায় সই করেছেন তিনি। এ সময় চার্জশিটভুক্ত আসামী হওয়ার পরও কেউ তাকে বাধা দেয়নি।
এমন কি সই করার পর তিনি সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন কিনা, এ ব্যাপারেও সুনিশ্চিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। টানা ৯০ দিন সংসদের অনুপস্থিত থাকলে সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এই ঝুঁকি থেকে বাঁচতেই সদস্যপদ ধরে রাখতে সাংসদের হাজিরা খাতায় সই করে গেছেন রানা।
গত এপ্রিলে রানার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদকে হত্যা করার অভিযোগ আছে তার উপর।
আত্মসমর্পণ না করায় এবং পলাতক থাকায় তার বাড়ির সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশনা দেন আদালত। কিছু মালামাল বাজেয়াপ্ত করাও হয়। কিন্তু বাড়ি থেকে বেশির ভাগ জিনিসপত্রই সরিয়ে ফেলা হয় অন্য কোথাও।
আমানুর রহমানের ব্যাপারটি নিয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের সঙ্গে কথা বলেছে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আমানুর রহমান নিজেই নিজেকে ছোট করছেন। তিনি সদস্য হিসেবে জামিন নিয়ে সংসদে আসতে পারতেন।’
রানার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা, এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটি স্পিকারের এখতিয়ার। স্পিকার সংসদের অভিভাবক। চিফ হুইপ হিসেবে আমার কিছু করার নেই। আর আমানুর রহমানের গ্রেফতারি পরোয়ানা সংসদে পাঠানো হয়নি। এখানকার নিরাপত্তাকর্মীরা ব্যাপারটিও জানতোও না। আমানুর যে এখানে এসে স্বাক্ষর দিয়ে গেছেন, তা আমরা দেখিনি।’




