slider

খাল পুণঃখননে নতুন স্বপ্ন দেখছেন ঝালকাঠির কৃষকরা

মোঃশাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি প্রতিনিধি : সেচ কাজের সুবিধার্থে ঝালকাঠিতে খাল খননের কাজ চলছে। সম্প্রতি ৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পুনঃখনন (১ম পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় খাল খনন কাজ শুরু করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার নবগ্রাম ও বিনয়কাঠি ইউনিয়নে ৩.২৫ কিলোমিটার খাল পুণঃখনন করা হচ্ছে। এইখাল পুণঃখননের পুরানো এ খাল নব্যতা ফিরে পাওয়ায়, নতুন করে
স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। বিশেষ করে এর ফলে বোরো মৌসুমে জমিতে সেচকাজ সহজলভ্য হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

এই খালের পানির ওপর এখানকার বোরো বøকের প্রায় ২ হাজার একর জমি
নির্ভরশীল বলে জানান স্বল্পসেনাসেনা গ্রামের কৃষক রত্তন আলী হাওলাদার। এই
খাল খননের পর থেকে এর আগে খালটি আর কখনও পুনঃখনন করা হয়নি। ফলে খর¯্রােতা
খালটি দুইপাশের মাটি জমে মরে যায়। পানির অভাবে অনেক জমির বোরো চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় অন্য একজন কৃষক বলেন, খালটির নাব্যতা সংকটের কারণে বোরো চাষের ওপর নির্ভরশীল চাষিদের পরিবারও চরম সংকটের মধ্যে দিন পার করছিলেন। তবে, খাল খনন হয়ে গেলে ও পানির প্রবাহ ঠিক থাকলে আগামীতে আবারও ক্ষেতগুলো বছরজুড়ে ফসলে ভরে থাকবে। কৃষকের মুখেও হাসি ফুটবে। কৃষক সুমন্ত রায় বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও বর্তমান সরকারের মহতী উদ্যোগে খালটি পুনঃখননের কাজ শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে যতটুকু খাল পুনঃখনন করা হয়েছে তাতেই এখন এলাকাবাসী মরা খালে পানির যৌবন ফিরে আসার স্বপ্ন দেখছেন।

ঝালকাঠি জেলার শস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত নবগ্রাম ও বিনয়কাঠি এই দুই ইউনিয়ন। চলমান খাল খননের ফলে এই দুটি ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের ১৫ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন বলে জানান স্থানীয়রা। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ঝালকাঠির নবগ্রাম লেগুনা স্ট্যান্ড (ব্রিজ) থেকে বিনয়কাঠি চৌমাথা পূর্বে ১.১৪ কিলোমিটার, বিনয়কাঠি চৌমাথা থেকে কালিজিরা সংযোগ খালের কড়াপুর পর্যন্ত ২.১১ কিলোমিটার খনন কাজ চলছে। খালের প্রশস্ততা, নাব্যতা, প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে খননের পরিকল্পনা ও নকশা করা হয়েছে। সে অনুযায়ী খাল খনন কাজের বাস্তবায়ন হচ্ছে। মেসার্স ন্যাচারাল নামের এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি আব্দুল মান্নান এ কাজ বাস্তবায়ন করছেন।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার দেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সেচ কাজের জন্য খালগুলো খনন কাজ শুরু করেছে। তারই অংশ হিসেবে ঝালকাঠিতেও খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। খাল খননের ফলে এই এলাকার চাষিদের ধান বা অন্যান্য শাক সবজি চাষে আর পানির সমস্যা থাকবে না। কাজের মান সরেজমিন দেখে ভালো মনে হচ্ছে। কাজ দেখার জন্য প্রতিদিনই ঝালকাঠি অফিস থেকে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাহিদ হাসান তদারকি করছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button