
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা : সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আদলে শিবগঞ্জে ভূয়া কার্ড ছাপিয়ে প্রায় ২০ হাজার অসহায়-দুস্থদের মধ্যে নিম্নমানের চাল বিতরণের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে জিয়াসমীন নামে এক নারী ও তার সহযোগির বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেসমিন বেগম ও তার সহযোগি। এদিকে শিগগির তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস জেলা প্রশাসনের।
মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ এই শ্লোগান ব্যবহার করে বোঝার উপায় নেই, কার্ডটি আসল নাকি ভূয়া। এনিয়ে প্রশাসনও পড়েছে বিভ্রান্তির মধ্যে। গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনুজ চন্দের নেতৃত্বে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালান চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগরের জাবড়ী কাজীপাড়া এলাকায়। পড়েন জনরোষের মধ্যে। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। মেসার্স মাসকুরা ট্রেডার্স নামে ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি ট্রেড লাইন্সেস নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসতঘরেই নিম্নমানের চাল মজুদ রেখে ব্যবসা শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দা জেসমিন বেগম। পরবর্তীতে প্রতারণা বুঝতে পেরে ইউনিয়ন পরিষদ ট্রেড লাইন্সেসটি বাতিল করে। আইনী ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনে ইতোমধ্যে অভিযোগ দাখিল করেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
নামধারী সুবিধাভোগীরা বলছেন, এটি সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বই নয়, কারণ গুগলে সার্চ দিয়ে এর অস্তিত্ব মেলেনি। চলতি মাসে চাল দিচ্ছে। তবে আগামী মাসে চাল না দিলে ক্ষতিগ্রস্থের মধ্যে পড়বে। শুধু তিনি নয়, হাজারো অসহায় মানুষ পড়বে ক্ষতির মুখে।
০১, ০২নং কার্ডধারী জানান মানুষের দেখাদেখি ৫ হাজার টাকা দিয়ে কার্ডটি নিয়ে পরে বুঝতে পেরেছেন, এটি সরকারি নয়। আগে বুঝতে পারলে টাকা দিয়ে কার্ড নিতেন না। লাপাত্তার আশঙ্কা করছেন তারা।
এখন ৫ হাজার টাকা বাদ আবারো ৪ হাজার টাকা দিয়ে কার্ড করতে হবে জানিয়েছে জিয়াসমীন ও তার সহযোগীরা। কিন্তু কতদিন চাল দেবে তারা সুনির্দিষ্ট করে বলছে না।
এদিকে জিয়াসমীনের সাথে যোগাযোগ করা না হলেও তার সহযোগীরা জানান, এটি সরকারি কোন সংস্থা নয়। এখানে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল দেয়া হচ্ছে। প্রথমে ৪ থেকে ৫ হাজার নেয়া হয় অনলাইন করার নামে। এটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ভূয়া কার্ড তৈরি করে চাল দিচ্ছে। যাতে লোভে পড়ে মানুষ প্রতারণার ফাঁদে পড়ে। এটি তাদের প্রতারণার জাল। দ্রুত আইনের আওতায় এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। না হলে এক সময় হাজারো দুস্থ মানুষ কোটি টাকার হারিয়ে ক্ষতির মধ্যে পড়বে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ জানান, প্রতারণার বিষয়টি টের পেয়ে ওই নারীর ট্রেড লাইন্সেসটি বাতিল করা হয়েছে। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
জেলা প্রশাসক, আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী, বলেন,তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।



