
কামরুল ইসলাম, রাঙামাটি প্রতিনিধি; বৃষ্টি থামলেই পানি জমে, আর তাতেই ডিম পাড়ে মশা। একটু অসাবধান হলেই ছড়িয়ে পড়ে ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়া। এভাবেই সতর্ক করছিলেন স্বাস্থ্যকর্মী আমিনুল ইসলাম। হাতে ঝাড়ু, সঙ্গে জীবাণুনাশক ছিটানো দল, আর পাশে মাইক হাতে স্বেচ্ছাসেবকরা। বৃহস্পতিবার সকালে এমন দৃশ্য দেখা গেছে রাঙামাটির বনরুপা, রিজার্ভ বাজার, কলেজগেইট এবং তবলছড়ি এলাকায়।
মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে আজ থেকে শুরু হয়েছে ক্লিনিং ক্যাম্পেইন ২০২৫। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, রাঙামাটি পৌরসভা এবং ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
মানুষকে সচেতন করাই মূল লক্ষ্য কর্মসূচির আয়োজকরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শহরের বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। দোকানপাট, নর্দমা, স্কুল-কলেজ, এমনকি অলি-গলির পানির পাত্র পর্যন্ত খুঁজে খুঁজে পরিষ্কার করা হয়।
রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। মশার লার্ভা ধ্বংস করতে হলে আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।
যুবসমাজের অংশগ্রহণ কর্মসূচির সার্বিক সহায়তায় ছিল বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি রাঙামাটি ইউনিটের যুব সদস্যরা। লাল-সাদা জার্সি পরে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকেরা রাস্তা ঝাড়ু দেন, আবর্জনা সরান এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেন।
তবলছড়ি এলাকার বাসিন্দা মোঃ সোহেল রানা বললেন, এমন উদ্যোগ যদি নিয়মিত হয় তাহলে মশার সমস্যা অনেক কমে যাবে। আমরা নিজেরাও শিখছি ঘর-বাড়ি পরিষ্কার রাখার গুরুত্ব।
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন, শুধু একদিনের অভিযানে সমস্যার সমাধান হবে না এমন মত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে, স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ছাড়া ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার প্রকোপ ঠেকানো সম্ভব নয়।
রাঙামাটির কলেজগেইট এলাকার দোকানদার শিফন মিয়া বলেন, আগে বুঝতাম না ছোট একটা পানিভর্তি বোতলও মশার বাসা হতে পারে। এখন দেখছি একটু সচেতন হলেই আমরা সবাই নিজেদের পরিবারকে নিরাপদ রাখতে পারি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহ জুড়ে জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে এ কর্মসূচি চলবে। পাশাপাশি ব্র্যাক ও পৌরসভা একসঙ্গে কাজ করবে মশার বংশবিস্তার রোধে।



