ক্যানবেরায় জাতীয় শোক দিবস পালিত

অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাইকমিশন যথাযথ মর্যাদা এবং ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে।
এ উপলক্ষে আজ সন্ধা সাড়ে ৬টায় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি’।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ ১৫ আগস্টে শাহাদাৎ বরণকারী সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
হাইকমিশনার কাজী ইমতিয়াজ হোসেন জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেয়া বাণী অনুষ্ঠানে পাঠ করা হয় এবং বঙ্গবন্ধুর জীবনের উপর প্রামান্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
আলোচনা পর্বে হাইকমিশনার বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের শাহাদাৎবরণকারী সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, বাঙ্গালী জাতির ইতিহাসে ১৫ আগস্ট এক কলঙ্কিত অধ্যায়। জাতির পিতা ছিলেন জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা এবং স্বাধীনতার রূপকার।
এ মহান মানুষটির জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশকে আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু বিশাল কর্মকান্ড গ্রহণের পাশাপাশি গ্রহণ করেছিলেন ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’-পররাষ্ট্র নীতি।
হাইকমিশনার জাতির জনকের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর আদর্শকে পৌঁছে দেয়ার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান। একই সাথে বর্তমানে জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্যও উদাত্ত আহবান জানান।
আলোচনা সভায় অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীরা অংশগ্রহণ করেন। তারা জাতির পিতাকে কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করেন এবং আবেগাপ্লুত হয়ে পরেন। বক্তারা বলেন, জাতির পিতার দূরদর্শী, সাহসী নেতৃত্বের কারণে বাঙ্গালী জাতি আজ স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছে। ঘাতক চক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন জাতির পিতার নাম এ দেশের লাখো-কোটি বাঙ্গালির অন্তরে চির অমলিন, অক্ষয় হয়ে থাকবে। তাঁরা শোককে শক্তিতে পরিণত করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য কাজ করবেন বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তবে হাইকমিশন সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং ১৫ আগস্টে নিহত সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করার মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচী শুরু হয়। অনুষ্ঠানে হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও প্রবাসী বাংলাদেশীরা যোগ দেন।



