sliderস্থানিয়

কোন ধরনের অপশক্তিই বিএনপির জনপ্রিয়তাকে রুখতে পারবে না: আফরোজা খানম রিতা

মোহাম্মদ আলী, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকা। যেটি একসময় ছিল চাঁদাবাজির আতুড়ঘর । ফ্যাসিবাদ সরকার পতনের পরে এখন সুশাসনের ছোঁয়ায় হয়ে উঠেছে ব্যবসাবান্ধব এলাকা ও সুরক্ষিত স্থান। বাসস্ট্যান্ডকে ঘিরে গড়ে ওঠা পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরা ও ফুটপাতের শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হয়েছে অধিকাংশই চাঁদামুক্ত। শান্তিতে ও নিরাপদে বাঁচছে ব্যবসায়ীরা সূত্রে এমনি জানা গেছে ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকেই জানান, এক সময়ের দাপুটে ফ্যাসীবাদি আওয়ামী সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী জাহিদ মালেকের প্রত্যক্ষ ছত্র-ছায়ায় এই ব্যবসা কেন্দ্র থেকে তোলা হতো বিপুল অঙ্কের চাঁদা। তা ছিল ওপেন সিক্রেট। তার ছত্রছায়ায় যারা ছিলো তারা গড়েছিলো বিলাসবহুল গাড়ি ও বাড়ির মালিক।

বর্তমানে জেলা বিএনপি ও পুলিশ প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে জিরো টলারেন্স নীতিতে এই অবস্থা রীতিমতো বদলে গেছে পুরো পেক্ষাপট।
বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, রাজনীতিবিদ,শিল্পপতি সাবেক মন্ত্রী হারুন রশীদ খান (মুন্ন) এর সুযোগ্য কন্যা জেলা বিএনপির অভিভাবক ও আহ্বায়ক আফরোজা খান রিতার দৃঢ় অবস্থান এবং পুলিশ প্রশাসনের কার্যকর নজরদারিতে কোন ভাবেই চাঁদাবাজরা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারছে না বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন সর্বসাধারণ জনগন।

এ বিষয়ে পরিবহন ব্যবসায়ী ও গাড়ি চালকরা সাংবাদিকদের জানান, আগে আয়ের সিংহভাগই চলে যেত ফ্যাসিবাদীদের আতুড়ঘরের জালিমদের হাতে এবং আমরা একবারে নি:স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে সার্বক্ষনিক । এখন শুধুমাত্র কেবল পৌর টার্মিনাল চার্জ দিলেই ব্যবসা চালানো যাচ্ছে লাভে।আমি বর্তমানে শান্তিতে ও নিরাপদে আছি।

এ বিষয়ে আরো অন্যান্য ব্যবসায়ী জানান, আওয়ামী লীগের সময় চাঁদা দিতে দিতে নিঃস্ব হয়েছিলাম। এখন ছেলে-মেয়েদের নিয়ে শান্তিতে ডালভাত খেতে পারছি।সব সময় যেন এমন পরিবেশের অবস্থায় শান্তিতে বসবাসের কাম্য। আগের রুপে যেন আর না ফিরে আসে এবং আমরা সর্বসাধারণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সর্বমহলের আস্থাভাজন আফরোজা খানম রিতার ভালোবাসায় আগামীর নেতৃত্বে তার অগ্রণী ভূমিকায়,নির্দলীয় নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সাংসদে আমরা দেখতে চাই এবং এমন অভিবভাবক আমাদের জেলার জন্য রত্ন। আমরা আমাদের অভিভাবক জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করছি।

অপরদিকে স্থানীয়বাসিন্দরা অনেকেই আবার আমাদেরকে জানান,ভয়ও লাগে কারণ শোনা যায় অনেক জায়গায় শুধু পাল্টেছে মানুষ, দল আর চাঁদার ধরণ। সেই সঙ্গে বেড়েছে চাঁদার পরিমাণও। তাই ওপর মহল সহ রাজনৈতিক দল ও প্রশাসন যেন এই দিকটা একটু সুদৃষ্টি রাখে তার দাবিও জোরদার আহ্বান জানিয়েছেন।

জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লিটন pataka24.com কে জানান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খান রিতা ও পুলিশ প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবহন থেকে শুধুমাত্র পৌর পার্কিং চার্জ নেওয়া হচ্ছে। এরপরও বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিগত সরকারের আমলে যারা ইজারা নিয়েছিল তারা জোড় করে অবৈধভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হতো।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা pataka24.com কে জানান, “মানিকগঞ্জে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির কোনো স্থান নেই। এই জেলা আমাদের গর্ব, এখানকার মানুষ শান্তিপ্রিয় ও পরিশ্রমী। আমি স্পষ্টভাবে আপনাদের (মিডিয়ার) মাধ্যমে বলতে চাই—পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির নামে কেউ যদি সাধারণ মানুষের ঘাম ঝরানো উপার্জনে ভাগ বসাতে চায়, তার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান নিব।
বাংলার মাটিতে আর কোন ফ্যাসিবাদিদের জায়গা কোন ভাবেই হবে না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর দিকনির্দেশনায় এবং দলীয় নির্দেশনায় জনগণের ভালোবাসা নিয়েই আগামীর পথ চলতে চাই। দেশমাতা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি এবং কোন ধরনের অপশক্তি আমাকে জনগণের ভালোবাসা হতে পিছনে ফালাতে পারবে না। জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা অপশক্তি রুখতে সর্বদা সোচ্চার ও প্রস্তুত আছে এবং শক্ত হাতে দমন করবে ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরো বলেন,আমাদের রাজনীতি হলো জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতি—লুটপাট নয়, ভয়ভীতি নয়। ব্যবসায়ীরা যেন নিশ্চিন্তে তাদের কাজ করতে পারেন, সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারেন—এই পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার।
দলীয় পরিচয়ের আড়ালে কেউ যদি অনিয়মে লিপ্ত হয়, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমি সকল ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানাই—আপনাদের যদি কেউ চাঁদা দাবি করে, তা সে যেই হোক, তাকে আইনের হাতে তুলে দিন। আমরা পাশে থাকব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং উন্নত একটি মানিকগঞ্জ গড়তে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোসাম্মৎ ইয়াছমিন খাতুন বলেন সাংবাদিকদের জানান, মানিকগঞ্জে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা এক বিন্দু ছাড় দিচ্ছি না। সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকার চাঁদাবাজদের গতিবিধি আমরা নজরে রেখেছি। কেউ চাঁদা তোলার চেষ্টা করলেই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা জনগণের পাশে আছি ও থাকবো। শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও চাঁদামুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে যা যা করার দরকার পুলিশ প্রশাসন সবটাই করবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button