
পতাকা ডেস্ক: কোটাসংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কারী নিখোঁজ আসিফ মাহমুদ সজিবের সন্ধান চেয়েছেন তার বাবা বিল্লাল হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এসে তিনি নিখোঁজ ছেলের সন্ধান চান।
ছেলের সন্ধানে আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন ও মা রোকসানা বেগম গতকাল কুমিল্লার মুরাদ নগর উপজেলার আকুবপুর গ্রাম থেকে ঢাকায় ছুটে আসেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ছেলের সন্ধান করেন। কিন্তু কোথাও ছেলের খোঁজ মেলেনি।
বিল্লাল হোসেন বলেন, আমার একমাত্র ছেলে আসিফ মাহমুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। গত ১৮ জুলাই রাতে সর্বশেষ আমার ছেলের সাথে কথা হয়। এরপর থেকে আর কোনো সন্ধান পাচ্ছি না।
তিনি বলেন, দুই দিন আগে ছেলেকে গুম করা হয়েছে বলে মোবাইল ফোনে আমাকে কেউ একজন জানান। এরপর স্থানীয় থানায় ছুটে যাই। সেখানের পুলিশ ঢাকায় আসার পরামর্শ দেয়। ঢাকা এসে হাসপাতালের মর্গে খোঁজ করি। কিন্তু কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিল্লাল হোসেন বলে ঢাকা এসে শুনেছি ছেলে কোটাসংস্কার আন্দোলন করেছে। আমার ছেলে কোনো দোষ করেনি। তাকে কেন গুম করা হলো। আসিফ আমাদের একমাত্র ছেলে। ওকে ছাড়া আমরা কী করে বাঁচবো আমরা সরকারের কাছে ছেলের সন্ধান চাই।
আসিফ মাহমুদের বন্ধু মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, আসিফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা বিজ্ঞানে মাস্টার্সে পড়ে। ৭১ হলে এ্যাটাস আছেন। যাত্রাবাড়ী এলাকায় বাসা ভাড়া করে থাকেন। আসিফ মাহমুদ কোটাসংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক। ১৮ তারিখ রাতে বাবা-মায়ের সাথে আসিফের কথা হয়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে।
আসিফ মাহমুদের ‘খোঁজ মিলেছে’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদের খোঁজ মিলেছে বলে জানিয়েছেন অপর এক সমন্বয়ক সারজিস আলম।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আসিফের সাথে তাদের কথা হয় বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন সারজিস আলম।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকেই আসিফ মাহমুদকে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।
তবে, গত চার দিন ধরে তার সাথে অন্যদের কোনো যোগাযোগ ছিল না।
সোমবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দু’জন সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ ও মাহিন সরকার সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন তাদের চারজন সমন্বয়ক নিখোঁজ আছেন।
যে চারজন সমন্বয়কের নিখোঁজের কথা বলা হয়েছিল তারা হলেন- আসিফ মাহমুদ, আব্দুল কাদের, রশিদুল ইসলাম রিফাত ও আবু বাকের মজুমদার।
সারজিস বলেন, আসিফ তাদের জানিয়েছেন, তাকে কে বা কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল। ‘ছাড়া পাওয়ার পর’ শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে আসিফের মোবাইল ফোনে কল করা হলেও কেউ রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি।
এর আগে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন যে- তাকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে।
ডিবি পরিচয়ে কোনো একটি ‘রাষ্ট্রীয় বাহিনী’ তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
যদিও নাহিদের এই অভিযোগের বিষয়ে বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান যে- ইসলামকে আটক বা ছেড়ে দেয়া সম্পর্কে তারা কিছু জানেন না।
সূত্র : বিবিসি




