সম্প্রতি পাকা ধানের জমিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় বর্তমানে কৃষকের দুর্দশার চিত্রই ফুটে উঠেছে। ধানের ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষক সমাজ। এদিকে অবিলম্বে ধানের দাম বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ধান ছিটিয়ে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানায়। এসময় কৃষকের কাছ থেকে নায্যমূল্যে সরাসরি ধান কেনার দাবিসহ ‘শিল্পপতি যদি পণ্যের দাম ঠিক করতে পারে, কৃষক কেন ফসলের দাম ঠিক করতে পারবে না?’, ‘কৃষক পায় না ধানের দাম, এটাই কি উন্ন্য়ন?’, ‘কৃষক যদি না করে ধান চাষ, দেখবো শাসকগোষ্ঠী কী খাস’ ইত্যাদি স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়।
ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী ইব্রাহীম খলিলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সুমন মোড়ল বলেন, ‘আমরা কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য চাই। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণে কোন পদক্ষেপ দেখা যায় না। বরং সরকার কৃষকদের কাছ থেকে না কিনে মিল মালিকদের কাছ থেকে ধান কিনে। ফলে কৃষককে ধান উৎপাদনের পর ঋণের টাকা শোধ করার জন্য অনেকটা বাধ্য হয়ে কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে হয়। কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ। দেশের উন্নয়ন করতে হলে আগে কৃষকদের অবস্থার উন্নয়ন করতে হবে।’
মাহমুদ সাকি বলেন, ‘যতই উন্নয়ন করি না কেন, কৃষক যদি তার ন্যায্যমূল্য পেয়ে বেঁচে থাকতে না পারে তবে সকল উন্নয়ন ম্লান হয়ে যাবে। কিছুদিন আগে আমরা এক কৃষককে দাম না পেয়ে নিজের ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে দিতে দেখেছি। এর আগে কৃষকরা রাস্তায় আলু-টমেটো ফেলে প্রতিবাদ করেছিল। এর কারণ কি? কেন কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না? এ ব্যাপারে সরকারকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নির্মূল করতে হবে। যদি এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আমরা ছাত্রসমাজ কৃষকের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’ বাংলা।




