কূটনৈতিকভাবে সরকার এতিম : মোশাররফ

আগামীতে প্রহসনের নির্বাচন করতে দেয়া হবে না মন্তব্য করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার কূটনৈকিভাবে এতিম হয়ে পড়েছে। আজকে বাংলাদেশে জনগণের সরকার ক্ষমতায় থাকলে কূটনৈতিক কর্মকান্ড এমনভাবে করতো যাতে মিয়ানমার বাধ্য হতো রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য ক্ষমতাসীন সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তাদের সাথে জনগণও নেই বিশ^ও নেই। তবে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারই পারবে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে।
আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম আ স ম হান্নান শাহ’র প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
হান্নান শাহ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। সংগঠনের আহ্বায়ক মেজর (অব:) মিজানুর রহমানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব:) মাহবুবুর রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল ও কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমসহ গাজীপুর জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ যদি সঠিকভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতো তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পক্ষে এত বড় গণহত্যা চালানো সম্ভব হতো না। সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণেই এত বড় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের সিকিউরিটি কাউন্সিলের যে রেজুলেশন, জাতিসংঘকে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গাদেরকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘকে কিভাবে করতে হবে? সেটা হলো মিয়ানমারকে বয়কটের রেজুলেশন, সহযোগিতা বন্ধ করে দিতে হবে, তাদের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে হবে। সেইফ জোনে বিশ্বাস করিনা, পুনর্বাসন করতে হবে। তবেই রোহিঙ্গাদের নিতে তারা বাধ্য হবে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, অবাধ এবং সকলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আমাদের করতে হবে, এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আজকে যদি হান্নান শাহ’র মতো সাহসী নেতারা থাকতো, তার বড় অভাব এবং তিনি থাকলে একটা তৎপরতা চালাতো এবং বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতো, জনগণের সরকারই পারবে কূটনৈতিক তৎপরতা ভালোভাবে চালাতে। জনগণের সরকার নাই বলে আজকে এই কূটনৈতিক তৎপরতার ব্যর্থতা আমরা দেখতে পাচ্ছি।
মাশাররফ হোসেন সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বিচার বিভাগ ও সংসদ আজকে মুখোমুখি অবস্থানে নেওয়া হয়েছে, রাষ্ট্রের তিনটি যে স্তম্ভ, তা আজ মুখোমুখি অবস্থানে, জনগণের সরকার থাকলে আজ এ অবস্থা হতো না। এজন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। আমরা লেভেল প্লেইং ফিল্ড চাই, সহায়ক সরকারের দাবি জানাই। হান্নান শাহ থাকলে আজ তা-ই চাইতেন। নির্বাচন নিয়ে প্রহসণ করতে দেয়া হবে না, জনগণের সাথে প্রতারণা করতে দেয়া হবে না।



