কিশোর সাগর হত্যার প্রধান আসামি আক্কাস আলী গ্রেফতার

আটক আক্কাস আলী ওরফে আক্কা, ইনসেটে নিহত সাগর।
ময়নসিংহের গৌরীপুরে খুঁটির সাথে বেঁধে পিটিয়ে কিশোর সাগর মিয়াকে (১৬) হত্যার প্রধান আসামি গাউছিয়া হ্যাচারির মালিক মো. আক্কাস আলী শুক্রবার ভোররাতে র্যাবের হাতে আটক হয়েছেন।
এর আগে নির্যাতনের ছবি ও ফুটেজ দেখে পুলিশ উপজেলার চরশ্রীরামপুর থেকে রিয়াজউদ্দিন রিজু (৫০) ও ফজলুর রহমানকে (৪০) আটক করে।
এনিয়ে সাগর হত্যা মামলায় তিনজনকে আটক করা হয়।
শুক্রবার বিকেলে র্যাব-১৪ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব-১৪ এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল শরিফুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সাগর হত্যা মামলার প্রধান আসামি গাউছিয়া হ্যাচারির মালিক আক্কাস আলী ওরফে আক্কাকে (৪০) কিশোরগঞ্জ হয়ে সিলেটে পালিয়ে যাওয়ার পথে ভৈরবের শম্ভুপুর রেলক্রসিং এলাকা হতে র্যাব-১৪ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর শেখ নাজমুল আরেফিন পরাগ ও সিপিএসসির ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে আটক করা হয়। সাগরকে হত্যার পর থেকে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।
গ্রেফতার এড়াতে প্রথমে ঈশ্বরগঞ্জে তার বোনের বাড়ি ও ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে মামার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু নিকটাত্মীয়ের বাসায় থাকা নিরাপদ নয় বলে বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে তিনদিন কাটিয়ে অবশেষে সিলেটের শায়েস্তাগঞ্জে তার এক ব্যবসায়ী বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয়ের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আক্কাস আলী সাগর হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের চরশ্রীরামপুরে গাউছিয়া মৎস্য হ্যাচারির পানিরপাম্প চুরির অপবাদে টোকাই সাগর মিয়াকে (১৬) আটক করে পিটিয়ে হত্যা করে হ্যাচারির মালিক আক্কাস আলী ও সহযোগিরা। এ ঘটনায় ময়মনসিংহ শহরের নাটঘরলেন এলাকার বস্তিবাসী শিপন মিয়া তার কিশোর পুত্র সাগর মিয়াকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে হ্যাচারির মালিক আক্কাস আলী, তার চার ভাই জুয়েল মিয়া, হাসু, সোহেল ও সাত্তার এবং কর্মচারি কাইয়ুমসহ আরো অজ্ঞাত ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের চরশ্রীরামপুরে অভিযান চালিয়ে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রিয়াজ উদ্দিন রিজুকে আটক করে। তার কথা অনুযায়ী ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৮ সেপ্টেম্বর একই এলাকা থেকে ফজলুর রহমানকে আটক করে। পরে দু’জনই আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত ভোররাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের চরশ্রীরামপুরে গাউছিয়া মৎস্য হ্যাচারির মালিক আক্কাস আলী পানিরপাম্প চুরির অপবাদে টোকাই সাগর মিয়াকে (১৬) আটক করে সাইনবোর্ডের খুঁটির সাথে পিঠমোড়া দিয়ে বেঁধে নির্মমভাবে পেটাতে শুরু করে। তার নির্দেশে তার ভাই জুয়েল মিয়া, সহযোগি কাইয়ুম, হাসু, সোহেল ও সাত্তারসহ আরো কয়েকজন সাগরতে নির্দয় ও নিষ্ঠুরভাবে অমানুষিক নির্যাতন করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন আক্কাস আলীকে মারধর করতে বারণ করলেও তিনি শোনেননি। এক পর্যায়ে নির্যাতনে সাগর নিস্তেজ হয়ে মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়লে লাশ গুম করে গা ঢাকা দেয় হত্যাকারিরা। ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ডৌহাখলা ইউনিয়নের চরশ্রীরামপুরের গাউছিয়া মৎস্য হ্যাচারির কাশবন থেকে সাগরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সাগরের বাবা মো. শিপন মিয়া জানান, ময়মনসিংহ শহরের নাটকঘর লেন সংলগ্ন রেললাইন এলাকার বস্তিতে তিনি ৩০ বছর ধরে থাকেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে মধ্যে সাগর দ্বিতীয়। সংসারের অভাব অনটনের জন্য তিনি ফেরিওয়ালা ও ছেলে সাগর ভাঙ্গারির ব্যবসা করে। দু’জনের আয় দিয়ে তাদের সংসার চলে। ঘটনার রাতে সাগর বাসা থেকে বের হয়ে রাতে বাসায় ফিরেনি। মঙ্গলবার সকালে পুলিশের কাছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছেলের লাশ শনাক্ত করেন শিপন মিয়া। সুত্র: নয়া দিগন্ত




