কাশ্মীর ইস্যুতে কথা বলায় মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে ভারত
কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের সমালোচনা করায় মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েলসহ বেশ কিছু পণ্য আমদানি সীমিত করার চিন্তাভাবনা করছে ভারত। ভারত সরকারের একটি সূত্র শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রটি জানায়, মালয়েশিয়া থেকে আমদানি কমানোর প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এই বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখছেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ গত মাসে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের যে সমালোচনা করেছেন তাতে ভারত সরকার ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়েছে। নিজেদের অসন্তুষ্টি প্রকাশ করার জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে শাস্তি দেয়ার জন্যই দেশটি থেকে আমদানি পণ্য সীমিত করে দেয়ার চিন্তা করছে মোদি সরকার।
প্রসঙ্গত, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ভোজ্যতেলের আমদানিকারক দেশ। এতদিন ধরে দেশটি প্রধানত মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে তাদের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতো। কিন্তু বর্তমানে ভারত সরকার ইন্দোনেশিয়া, আর্জেন্টিনা এবং ইউক্রেনের মত ভোজ্যতেল রপ্তানিকারক দেশগুলো থেকে তেল আমদানি করার চিন্তাভাবনা করছে।
ভারতের মোট ভোজ্যতেল আমদানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হচ্ছে পাম অয়েল। প্রতি বছর দেশটি ৯০ লাখের বেশি পাম অয়েল মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করে থাকে।
এদিকে মালয়েশিয়ার পাম অয়েলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হল ভারত। মালয়েশিয়ার পাম অয়েল বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালের প্রথম নয় মাসে ভারত দেশটি থেকে ৩৯ লাখ টন পাম অয়েল আমদানি করেছে।
এদিকে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, বিষয়টি এখনো বিবেচনাধীন থাকার কারণে এই ব্যাপারে এখনই মন্ত্রণালয় থেকে কোন মন্তব্য করা যাবে না।
শুক্রবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি এই ব্যাপারে ভারতের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন বার্তা পাননি।
উল্লেখ্য, গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪ তম অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার সময় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থানের সমালোচনা করেন। তিনি বলেছেন, ভারত জম্মু-কাশ্মীর আক্রমণ করে দখল করে রেখেছে। কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করার জন্য তিনি দিল্লিকে পাকিস্তানের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট নরেন্দ্র মোদির সরকার ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে দেয়। এর ফলে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের স্বায়ত্তশাসন ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়ে যায়। এই রাজ্য দুটিকে ভারতের কেন্দ্রীয় শাসনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়া কাশ্মীরিদের বিক্ষোভের ভয়ে মোদি সরকার উক্ত অঞ্চলে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জারি করে এবং কাশ্মীরি নেতাদের গৃহবন্দী করে রাখে। এখনো পর্যন্ত কাশ্মীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি।




