উপমহাদেশশিরোনাম

কাশ্মীরে মুসলিমদের ‘পন্ডিত’ পদবী কিভাবে এলো

ভারত শাসিত কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের জামিয়া মসজিদের সামনে যে পুলিশ অফিসারকে কিছু উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলেছে, তাঁর নাম ছিল মুহম্মদ আয়ুব পন্ডিত।
তাঁর মৃত্যুর খবর প্রচারিত হওয়ার পরে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিলেন তিনি যদি মুসলমান হয়ে থাকেন তাহলে নামের সঙ্গে হিন্দু পদবী কেন?
অনেকেই বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেজে মন্তব্য করেছিলেন যে তাঁর নাম হয় ভুল করে লেখা হয়েছে, অথবা তিনি আসলে একজন হিন্দু ছিলেন।
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে অ-কাশ্মীরিদের কাছে অজানা বেশ কিছু তথ্য।
‘পন্ডিত’ পদবী যুক্ত সব কাশ্মীরিদেরই হিন্দু বলে ভুল করে থাকেন ওই রাজ্যের বাইরের অনেক মানুষ।
আসলে মুসলমান নাম আর পদবীর শেষে ‘পন্ডিত’ ব্যবহার করেন যে সব কাশ্মীরি, তাঁরা আসলে ব্রাহ্মণ ছিলেন। কোনও এক সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এঁদের পূর্বপুরুষরা।
মুহম্মদ দেন ফৌক তাঁর বিখ্যাত কাশ্মীরি জাতির ইতিহাসে ‘পন্ডিত শেখ’ নামে একটা গোটা পরিচ্ছেদই রেখেছেন ।

আয়ুব পন্ডিতের মরদেহ নিয়ে যাচ্ছেন স্বজনরা

“কাশ্মীরে ইসলাম আসার আগে সকলেই হিন্দু ছিলেন। এঁদের মধ্যে হিন্দু ব্রাহ্মণরাও ছিলেন। অন্যান্য জাতিরও বাস ছিল কাশ্মীরে। ব্রাহ্মণদের একটা অংশ শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আদি কাল থেকে। মূলত শিক্ষা দিতেন এঁরা,” লেখা হয়েছে ‘পন্ডিত শেখ’ শীর্ষক ওই পরিচ্ছেদে।
মুহম্মদ দেন ফৌক লিখছেন, “ব্রাহ্মণদের ওই অংশ, যাঁরা শিক্ষা দিতেন, তাঁরাই যখন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখনও শিক্ষাদানের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে নিজেদের ‘পন্ডিত’ পদবীটা ব্যবহার করতে থাকেন। এখনও ওই অংশের মানুষ নিজেদের পন্ডিত পদবীটা ব্যবহার করেন। এঁদের শেখ-ও বলা হয়ে থাকে। মুসলমান পন্ডিতদের বাস মূলত গ্রামীণ এলাকাগুলোতে।”
কাশ্মীরের বর্ষীয়ান লেখক ও ইতিহাসবিদ মুহম্মদ ইউসুফ টেঙ বলছেন এখন মুসলমান পন্ডিতদের সংখ্যাটা হাজার পঞ্চাশেকের মতো হবে।
তাঁর কথায়, “কাশ্মীরি পন্ডিতদের হিন্দু বলা হত না – তাঁদের শুধুই পন্ডিত বলে সম্বোধিত করা হত। পন্ডিত শব্দের অর্থ ব্রাহ্মণ, বিশেষ করে ব্রাহ্মণ শিক্ষক। এঁরা কাশ্মীরের মূল বাসিন্দা, বহিরাগত নন।
“কাশ্মীরি মুসলমানদের অনেকের পদবী ভাট বা বাট। এরাও ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলমান হয়েছেন। অনেক পন্ডিতও ভাট পদবী ব্যবহার করেন।”
মি. টেঙ-এর আরও মন্তব্য, কিছু ধর্মান্তরিত মুসলমানের নামে ‘পন্ডিত’ পদবী ব্যবহার করা নিয়ে কাশ্মীরের অন্যান্য মুসলমানরা কখনই কিন্তু কোনও ধরণের আপত্তি তোলেন নি। বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button