অপরাধশিরোনাম

কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত হচ্ছেন হাজী সেলিমের ছেলে

নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমকে কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত করা হচ্ছে।
এ সংক্রান্ত চিঠি ইস্যু প্রক্রিয়াধীন বলে মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে জানান স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।
এর আগে সোমবার দুপুরে পুরান হাজী সেলিমের ঢাকার দেবীদাস ঘাটের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইফরান সেলিমকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।
অভিযানে অবৈধ অস্ত্র, ইয়াবা, ওয়াকিটকিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় বলে র‌্যাব জানায়।
অভিযান শেষে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলম দুটি আলাদা অভিযোগে ইরফান ও হাজী সেলিমের দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে ছয় মাস করে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।
এ ছাড়া অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য রাখার অভিযোগে আলাদা দুটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে র‌্যাব।
সোমবার ভোরে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান, গাড়িচালক, দেহরক্ষীসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় মামলা করেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমেদ খান।
এজাহারের বরাত দিয়ে ধানমণ্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুন্নাহার জানান, মামলায় চারজনকে এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাত আরও দু-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
ওই চার আসামি হলেন মোহাম্মদ ইরফান সেলিম, দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদ, হাজী সেলিম ও মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমান।
আসামিদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে পথরোধ করে সরকারি কর্মকর্তাকে মারধর, জখম ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইরফান নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীর জামাতা। এদিকে গতকাল গাড়িচালক মিজানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
ধানমণ্ডি থানা পুলিশের বিবরণ ও মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, কলাবাগান ক্রসিংয়ের কাছে (ল্যাবএইড হাসপাতালের কাছে) ‘জাতীয় সংসদের’ স্টিকার লাগানো একটি ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। ওয়াসিফ মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়িটির গ্লাসে নক করে নিজের পরিচয় দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তখন এক ব্যক্তি গাড়ি থেকে বের হয়ে তাকে অকথ্য গালিগালাজ করে।
এরপর গাড়িটি কলাবাগানের দিকে চলে যেতে থাকে। মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াসিফও তাদের পেছনে পেছনে যান। এরপর কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে থামার পর মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান ওয়াসিফ। তখন তিন-চারজন লোক গাড়ি থেকে নেমে বলতে থাকে, ‘তোর বাহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি। তোকে আজ মেরেই ফেলব’ এ কথা বলে তাকে কিলঘুষি মারতে থাকে।
পরে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করেন। পুলিশ আসায় হামলাকারীরা গাড়িটি রেখে পালিয়ে যায়। ধানমণ্ডি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি ও মোটরসাইকেলটি থানায় নিয়ে যায়। মারধরের ঘটনাটি পথচারীরা মোবাইল ফোনে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button