করোনা: ভিয়েতনামের সাফল্য থেকে শিখতে দেরি করেছে অন্যরা

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় অনন্য উদাহরণ ভিয়েতনাম। চীনের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকা সত্ত্বেও দেশটিতে এ পর্যন্ত একজনও করোনায় শনাক্ত হয়ে মারা যাননি।
বিবিসি জানায়, প্রায় ১০ কোটি জনসংখ্যার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩০ জন।
শুরুতেই কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সেসগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করায় মধ্যম আয়ের দেশটি তাদের আক্রান্তের হার এতোটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে পেরেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এই প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার একদম প্রথম দিকেই ভিয়েতনাম সরকার বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তার আগে তারা চীনের সাথে সব সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। সীমান্ত এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাড়ানো শুরু করে।
তবে এসব ব্যবস্থা কার্যকর করতে অন্যান্য দেশ কয়েক মাস পর্যন্ত সময় ব্যয় করেছিল। ফলে করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের অনেক সমৃদ্ধশালী দেশ।
মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ভিয়েতনামে যারা বাইরের দেশ থেকে প্রবেশ করেছেন এবং যারা কভিড-১৯ পজিটিভ রোগীদের সংস্পর্শে এসেছেন তাদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
এই নির্দেশনাগুলো কার্যকর করতে প্রতিটি পর্যায় তারা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে।
তবে অন্যান্য দেশের জন্য ভিয়েতনামে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠলেও তাদের সাফল্য থেকে শিখতে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
ফলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, ইরানসহ অনেক দেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এক দেশ হিসেবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই এক লাখ ১৭ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ২১ লাখেরও বেশি মানুষ।
করোনা পরিস্থিতিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে দুইজন স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। এমনকি দেশটিতে লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলসোনারো নিজেই।
এতে ব্রাজিলে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে মৃত্যু। আক্রান্ত ও মৃতের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরই এখন দেশটি। লাতিন আমেরিকার দেশটিতে ৮ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি আক্রান্ত, এর মধ্যে মারা গেছেন ৪৩ হাজারের অধিক মানুষ।
লকডাউন ও বিধিনিষেধ আরোপে বিলম্ব করেছে যুক্তরাজ্যও। যার খেসারত হিসেবে করোনা উপসর্গসহ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে দেশটিতে, আক্রান্ত ৩ লাখের কাছাকাছি।




