
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মানুষের জীবন নিয়ে চরম তামাশা করছে সরকারের লোকজন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, করোনাভাইরাস নিয়ে ছলচাতুরী বন্ধ করুন, মানুষের জীবন নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলবেন না।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় থেকে এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া ফলাফলের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে বাসা থেকে করোনা ভাইরাসের নমুনা নিয়ে পিসিআর ল্যাবে টেস্ট না করেই রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। লটারির মতো পজিটিভ বা নেগেটিভ লিখে রিপোর্ট সনদ তৈরি করে পাঠিয়ে দেওয়া হয় রোগীর মেইলে। আবার বুথে নমুনা দিলে সেখানেও একই অবস্থা। টেস্ট না করিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয় রিপোর্ট। কী ভয়ঙ্কর অবস্থা!
তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে বিদায় দেওয়ার সরকারের সিদ্ধান্ত গণবিরোধী। গণদুশমন ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত কেউ নিতে পারে না। পাটকল শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের এ সিদ্ধান্ত মরার ওপর খাঁড়ার ঘার মতো অবস্থা। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী সরকারের গণবিরোধী এ সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। পাটকল শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে আমরা এ গণবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর দুরবস্থার জন্য সরকারকে দায়ী করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, তাদের (সরকার) ভ্রান্তনীতি ও অব্যবস্থাপনাপয় দেশের ঐহিত্যবাহী পাটশিল্প আজ ধবংসের দ্বারাপ্রান্তে। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে দুর্নীতি, লুটপাট, ভুলনীতি এবং মাথাভারী ও অদক্ষ প্রশাসন লোকসানের জন্য দায়ী, শ্রমিকরা নয়। কারণ মৌসুমের জুলাই-আগস্ট মাসে পাটের দাম যখন ১ হাজার টাকা থেকে ১২শ’ টাকা থাকে তখন পাট না কিনে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে যখন পাটের দাম ২ হাজার থেকে ২২শ’ টাকা হয় তখন পাট কেনা হয়। শুধু তাই নয়, চাহিদার চেয়ে কম পাট কেনা হয়।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের এ দুর্যোগকালে এমনিতেই যখন প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, বিদেশ থেকেও অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়ে দেশে ফিরছেন, তখন ক্ষমতাসীন কথিত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে ২৫টি রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের এ গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রিজভী আরও বলেন, বিদেশে পাটের বাজার খোঁজা, পণ্যের বহুমুখীকরণ ইত্যাদি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় এবং বিজেএমসির কাজ। লোকসানের দায় কোনও ভাবে শ্রমিকরা নেবে না।



