করোনা নিয়ে উত্তেজনা : চীন থেকে ১৩ মার্কিন সাংবাদিক বহিষ্কার

করোনাভাইরাস নিয়ে অনুসন্ধানরত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সাংবাদিককে বহিষ্কার করেছে চীন। বহিষ্কৃতরা নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক।
বিবিসি জানায়, এই সাংবাদিকেরা চীনের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বিশেষ এলাকা হংকং ও ম্যাকাউতেও কাজ করতে পারবেন না। এ ঘটনায় বেইজিংয়ের তীব্র সমালোচনা করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো।
মার্কিন পত্রিকাগুলো জানায়, চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে নতুন করোনাভাইরাস প্রকোপ দেখা দেওয়ার পরপরই তারা এই মহামারির ওপর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করছিলেন।
এক প্রতিক্রিয়ায় নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, চীন এভাবে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে বড় ধরনের ভুল করেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ভাষ্য, এই বহিষ্কার মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নজিরবিহীন আক্রমণ।
এদিকে চীন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত চীনা সাংবাদিকদের ওপর বিধি-নিষেধের আরোপের জবাবেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে ঠিক কতজন চীনা নাগরিক সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতে পারবেন তার সীমা বেঁধে দিয়েছিল।
বলা হচ্ছে, এর প্রতিশোধ হিসেবেই বেইজিং মার্কিন সাংবাদিকদের চীন থেকে বহিষ্কার করেছে।
করোনাভাইরাস নিয়ে এমন বিপর্যয়ের মুখে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই উত্তেজনায় অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা।
তাদের মতে, চীনসহ সারা বিশ্ব যখন করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবিলায় জোর লড়াই করছে, তখন বিশ্বের দুই শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা সেই লড়াইকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
কভিড-১৯ মোকাবিলা নিয়ে দুটো দেশ শুরু থেকেই একে অপরকে আক্রমণ করে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসকে ‘চীনা’ বলে উল্লেখ করে বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করেছে। প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং জানায়, এ ধরনের মন্তব্য করে ওয়াশিংটন চীনকে বদনাম দেওয়ার চেষ্টা করছে।
করোনাভাইরাসটি চীনের উহান শহরেই প্রথম পাওয়া যায় গত বছরের শেষের দিকে।
কিন্তু চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে যে, মার্কিন সৈন্যরাই এই ভাইরাসটি সেখানে নিয়ে গেছে।




