আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্ব কি জিততে যাচ্ছে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক নতুন ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছিল এবছরের শুরুর দিকে, ছয় মাসের বেশি আগে।
জানুয়ারির শেষে সেই দিনটিতে তখনো পর্যন্ত দশ হাজারের মতো করোনাভাইরাসের নিশ্চিত সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়েছে। মারা গেছে দুশোর বেশি। তবে তখনো পর্যন্ত এসব ঘটছে কেবল চীনে। করোনাভাইরাসের একটি সংক্রমণও তখনো পর্যন্ত চীনের বাইরে ঘটেছে বলে জানা যায়নি।
জানুয়ারির সেই সময়ের পর পুরো বিশ্ব এবং আমাদের সবার জীবন বিরাটভাবে পাল্টে গেছে।
মানবজাতির সঙ্গে একটি ভাইরাসের এই লড়াই তাহলে কোন দিকে যাচ্ছে? কে জয়ী হবে?
যদি পুরো পৃথিবীর কথা বিবেচনায় নিতে হয়, তাহলে চিত্রটা খুব ভালো নয়।
এ পর্যন্ত পরীক্ষার মাধ্যমে করোনাভাইরাসের নিশ্চিত সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষের। মারা গেছে ৭ লাখ মানুষ।
শুরুর দিকে প্রতি এক লাখ মানুষের করোনাভাইরাস সংক্রমণের শিকার হতে কয়েক সপ্তাহ লাগতো। আর এখন মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই এক লাখ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডঃ মার্গারেট হ্যারিস বলেন, “আমরা এখনো খুব দ্রুত বাড়তে থাকা এক তীব্র এবং গুরুতর মহামারির মধ্যে আছি।”
মহামারি হয়তো একটাই, কিন্তু এই মহামারির গল্প একটি নয়। বিশ্বের সব জায়গায় কোভিড-১৯ এর প্রভাব একই রকম নয়। কাজেই নিজ দেশের বাইরে অন্যান্য দেশের বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞতা খুব স্বাভাবিক।
কিন্তু একটা ব্যাপার দুনিয়ার সবার জন্য একই। সে আপনি আমাজনের জঙ্গলে থাকুন বা সিঙ্গাপুরের আকাশছোঁয়া ভবনে থাকুন, অথবা গ্রীস্মকালে যুক্তরাজ্যের রাস্তায় থাকুন। মানুষ মানুষের কাছাকাছি আসলেই আসলে এই ভাইরাসের রমরমা, এই ভাইরাস বাঁচে এক মানুষ থেকে অন্য মানুষের দেহে বাসা বেঁধে। কাজেই মানুষ যত মানুষের কাছাকাছি আসবে, তত সহজে এটি ছড়াবে। প্রথম যখন চীনে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছিল, তখন যেমন এটি সত্যি ছিল, এখনো তাই।
আপনি পৃথিবীর যেখানেই থাকুন, করোনাভাইরাসের এই আচরণই আসলে ব্যাখ্যা করবে সেখানকার পরিস্থিতি। আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তার উত্তরও নিহিত এর মধ্যে।
লাতিন আমেরিকা এখন করোনাভাইরাসের মূল কেন্দ্র। সেখানে যে এত বেশি সংখ্যায় মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে, তার কারণ এটি। হংকং কেন লোকজনকে কোয়ারেনটিনের জন্য স্থাপন করা জায়গায় আটকে রাখছে কিংবা দক্ষিণ কোরিয়া কেন লোকজনের ব্যাংক একাউন্ট এবং ফোন চেক করছে, তার কারণও একই। করোনাভাইরাসের এই আচরণের কারণেই ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়া লকডাউন তুলে নিতে হিমসিম খাচ্ছে। আমরা যে মহামারির আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারছি না, তার বদলে এক ‘নিউ নর্মাল’ বা নতুন স্বাভাবিক অবস্থার সন্ধানে আছি, তার কারণও এটি।
ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের সেন্ট জর্জেসের ডঃ এলিসাবেটা গ্রোপেল্লি বলেন, “এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে পুরো গ্রহ জুড়ে। এটি আমাদের সবার ওপর প্রভাব ফেলছে। এটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। এই ভাইরাসের বিস্তার দেখেই আসলে বোঝা যায় আমার সবাই কীভাবে একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত।”
“কেবল ভ্রমণের কথা বলছি না, এই যা আমরা একে অন্যের সঙ্গে কথা বলি, এক সঙ্গে সময় কাটাই- মানুষ তো আসলে এগুলোই করে।”
এই ভাইরাসের গতিবিধির ওপর নজর রাখা বেশ দুস্কর। কারণ ভাইরাসে আক্রান্ত বহু মানুষের মধ্যে কোন লক্ষণই দেখা যায় না। অনেকের লক্ষণ একেবারেই মৃদু। অথচ কারও কারও বেলায় এই ভাইরাস খুবই মারাত্মক। তাদের ভিড়ে হাসপাতালগুলো রীতিমত হাঁপিয়ে উঠে।
“এটি যেন আমাদের কালের জন্য সবচেয়ে লাগসই মহামারি হয়ে এসেছে। আমরা এখন এই মহামারির যুগে বাস করছি”, বলছেন ডঃ হ্যারিস।
করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যেখানে যেখানে সাফল্য এসেছে, তা সম্ভব হয়েছে একজন থেকে আরেকজনের দেহে এই ভাইরাসের যাওয়ার পথ বন্ধ করার মাধ্যমে। নিউজিল্যান্ডের সাফল্য সবার নজর কেড়েছে। তারা খুব দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল। যখন মাত্র কয়েকটা সংক্রমণ ধরা পড়েছে, তখন থেকে। তারা পুরো দেশে লকডাউন জারি করেছে, সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। নিউজিল্যান্ডে এখন করোনাভাইরাস নেই বললেই চলে। জীবন সেখানে মোটামুটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে গেছে।
মূল কিছু বিষয় মেনে চলায় অনেক গরীব দেশও ভালোভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত কিন্তু চীনের, যেখানে মহামারির শুরু। মঙ্গোলিয়ার অবস্থা খুব খারাপ হতে পারতো। কিন্তু জুলাই পর্যন্ত মঙ্গোলিয়ায় একজনকেও করোনাভাইরাসের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি। এ পর্যন্ত মঙ্গোলিয়ায় করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে ২৯৩ জনের। একজনও মারা যায়নি।

লন্ডন স্কুল অব হাইজিন এন্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের প্রফেসর ডেভিড হেইম্যান বলেন, “মঙ্গোলিয়া খুব সীমিত সম্পদ দিয়ে কিন্তু খুব ভালো কাজ দেখিয়েছে। একটা মহামারিকে যেভাবে মোকাবেলা করতে হয়, তারা সেভাবেই করেছে। প্রতিটি আক্রান্ত মানুষকে আলাদা করেছে, তারা কার কার সংস্পর্শে এসেছে, তাদের চিহ্ণিত করেছে। এসব লোককেও এরপর আলাদা করা হয়েছে।”
এছাড়াও মঙ্গোলিয়া খুব দ্রুত তাদের সব স্কুল বন্ধ করেছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ওপর বিধিনিষেধ জারি করেছে। সেই সঙ্গে ফেস মাস্ক পরা কিংবা হাত ধোয়ার নিয়ম অনেক আগে থেকে চালু করেছে।
প্রফেসর হেইম্যান বলেন, এর বিপরীতে বহু দেশে করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবেলার চেষ্টায় ব্যাঘাত ঘটেছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাবে। তার মতে, “এসব দেশে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতারা এক সুরে কথা বলতে পারেননি।”
এরকম এক পরিবেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে ব্যাপকভাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং দেশটির সংক্রামক ব্যাধি বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা ডঃ অ্যান্টনি ফাউচির কথা এখানে উদাহারণ হিসেবে টানা যায়। স্পষ্টতই তাদের দুজনের অবস্থান ছিল দুজায়গায়।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেয়ার বোলসোনারো এমনকি লকডাউন-বিরোধী সমাবেশে পর্যন্ত যোগ দিয়েছেন। তিনি এই ভাইরাসকে ‘লিটল ফ্লু’ বলে বর্ণনা করেছেন। এমনও বলেছেন, মার্চ নাগাদ মহামারি কেটে যাবে।
কিন্তু বাস্তবে কেবল ব্রাজিলেই প্রায় ৩০ লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং এক লাখ মানুষ মারা গেছে।
এদিকে যেসব দেশ কঠোর লকডাউন জারি করে, পুরো অর্থনীতি আর সমাজকে অচল করে দিয়ে, এই ভাইরাস মোকাবেলায় বেশ সফল হয়েছিল, তারা দেখছে, এই ভাইরাস আসলে বিদায় নেয়নি। লকডাউন শিথিল করা হলে এটি আবার ছড়াবে। কাজেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়া এখনো মরীচিকা বলেই মনে হচ্ছে।
ডঃ গ্রোপেল্লি বলেন, “এসব দেশ বুঝতে পারছে, লকডাউন জারি করা যত সহজ, তুলে নেয়া তত সহজ নয়। কিভাবে এই ভাইরাসের সঙ্গে আমাদের বাঁচতে হবে, সেটা নিয়ে তারা আসলে ভাবেনি।”
যেসব দেশ এখন লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে, অস্ট্রেলিয়া তার একটি। অথচ অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের অবস্থা এখন খুবই সংকটজনক। মেলবোর্ন গত জুলাই মাসের শুরুতেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যায়। কিন্তু সেখান আবার সংক্রমণ শুরু হলে নুতন করে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সেখানে এখন রাত্রিকালীন কারফিউ জারি রয়েছে। লোকজনকে বলা হয়েছে, তারা যেন হাঁটতে বা দৌড়াতে গেলে পাঁচ কিলোমিটারের বেশি দূরে না যায়।
ইউরোপেও সবকিছু ধীরে ধীরে খুলে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু স্পেন, ফ্রান্স এবং গ্রীস- এই তিনটি দেশই জানাচ্ছে, গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আবার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। গত তিন মাসের মধ্যে এই প্রথম জার্মানিতে দৈনিক সংক্রমণ এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
এক সময় মুখে মাস্ক পরা লোক দেখা যেত কদাচিৎ। এখন পুরো ইউরোপ জুড়েই এটাই স্বাভাবিক। এমনকি অনেক সমূদ্র তীরবর্তী পর্যটন শহরেও এটা বাধ্যতামূলক করেছে।
মহামারি মোকাবেলায় আগের সাফল্য যে ভবিষ্যৎ সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়, সেরকম সংকেতও আমরা দেখতে পাচ্ছি। করোনাভাইরাসের প্রথম ধাক্কা সাফল্যের সঙ্গে মোকাবেলা করায় সবাই হংকং এর প্রশংসা করছিল। কিন্তু সেখান পানশালা এবং জিমগুলো আবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ডিজনিল্যান্ডের দরোজা খুলে দেয়া পর একমাসও খোলা রাখা যায়নি, আবার বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
“লকডাউন তুলে নেয়ার মানে এই নয় যে আমরা আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারবো। এটি এক নতুন ধরণের স্বাভাবিক অবস্থা। মানুষ মনে হয় এখনো এই ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারেনি”, বলছেন ডঃ হ্যারিস।
করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে আফ্রিকা মহাদেশের লড়াই নিয়ে অনেক প্রশ্ন। সেখানে ১০ লাখের বেশি সংক্রমণ ধরা পড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা শুরুতে সাফল্য দেখালেও তাদের অবস্থা এখন মনে হচ্ছে বেশ খারাপ। পুরো আফ্রিকা মহাদেশে যত সংক্রমণ ধরা পড়েছে, তার বেশিরভাগই দক্ষিণ আফ্রিকায়। কিন্তু আফ্রিকায় করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা হচ্ছে খুবই কম। কাজেই কোন স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।
বাকী বিশ্বের সঙ্গে তুলনায় আফ্রিকায় করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার কেন এত কম, সেটাও এক বিরাট ধাঁধা। এর যেসব ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে তার কয়েকটি এরকম:
আফ্রিকার মানুষ তুলনামূলকভাবে তরুণ। আফ্রিকায় জনসংখ্যার গড় বয়স ১৯। কোভিড-১৯ বয়স্ক মানুষের বেলাতেই বেশি প্রাণঘাতী ।
আফ্রিকায় অন্যান্য ধরণের করোনাভাইরাসের প্রকোপ হয়তো বেশি।সেকারণে হয়তো আফ্রিকার মানুষ কিছু বাড়তি সুরক্ষা পাচ্ছে।
ধনী দেশগুলোতে যে ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যা খুব বেশি, যেমন শারীরিক স্থূলতা এবং টাইপ টু ডায়াবেটিস, যা করোনাভাইরাসের ঝুঁকি বাড়ায়, আফ্রিকায় তা অতটা ব্যাপক নয়।
করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন ধরণের উপায় খুঁজে বের করছে। রুয়ান্ডায় হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ পাঠানো হচ্ছে ড্রোন ব্যবহার করে। ড্রোন থেকে করোনাভাইরাস বিষয়ক সতর্কবাণীও সম্প্রচার করা হচ্ছে। যারা নিয়ম ভাঙ্গছে তাদের ড্রোন দিয়ে ধরা হচ্ছে।
এদিকে ভারতের কিছু কিছু অঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলে হাত ধোয়ার মতো সহজ পরামর্শটিও মানা যাচ্ছে না বিশুদ্ধ পানি এবং স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে।
ডঃ গ্রোপেল্লি বলছেন, “বহু মানুষ আছে যাদের হাত ধোয়ার জন্য পানির সুবিধা আছে, বহু মানুষ আছে যাদের আবার এই সুবিধা নেই। এটা একটা বিরাট ফারাক। পুরো বিশ্বকেই আসলে আপনি এর ভিত্তিতে দুই ভাগ করতে পারেন। তারপর আছে আরও বড় প্রশ্ন: একটা টিকা খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত কীভাবে আপনি এই ভাইরাসের মোকাবেলা করবেন?
কখন এই অবস্থার অবসান ঘটবে ?
করোনাভাইরাসের কিছু চিকিৎসা এখন ঔষধ দিয়ে করা হচ্ছে। ডেক্সামেথাসোন- একটি সস্তা এস্টরয়েড- খুব সংকটাপন্ন রোগীর বেলায় কাজ করছে বলে দেখা গেছে। কিন্ত সব মৃতপ্রায় রোগীকে বাঁচানোর মতো চিকিৎসা এখনো নেই। আর সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার মতো টিকা বা চিকিৎসা তো আরও দূরের ব্যাপার।
করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সুইডেন যে কৌশল নিয়েছিল, সেটির ওপর নজর রাখবে অনেকে। দেখবে, এ থেকে দীর্ঘমেয়াদে কী ফল পাওয়া যায়। সুইডেন লকডাউনের পরিবর্তে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের কৌশল নিয়েছিল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সুইডেনে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় মৃত্যুর হার অনেক বেশি।
সাধারণভাবে বলতে গেলে, পুরো পৃথিবী এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য একটি বিষয়ের উপরেই নির্ভর করছে- তা হচ্ছে একটি টিকা খুঁজে পাওয়া। যদি মানুষকে টিকা দেয়া যায়, তাহলে এই ভাইরাস একজন থেকে একজনে ছড়াতে পারবে না।
এই মূহুর্তে ছয়টি টিকা নিয়ে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। যেসব টিকাকে খুব সম্ভাবনাময় বলে মনে করা হচ্ছে, সেগুলো আসলে কাজ করে কীনা, সেটা জানা যাবে এই তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায়। কাজেই এই ধাপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই চূড়ান্ত ধাপে এসেই আসলে আগের অনেক প্রতিষেধকের চেষ্টা বিফল হয়েছিল।
কাজেই বিশেষজ্ঞরা এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আগে থেকেই জোর দিয়ে বলছেন, টিকা কখন পাওয়া যাবে সেটা বড় প্রশ্ন নয়, বড় প্রশ্ন হচ্ছে আদৌ টিকা পাওয়া যাবে কীনা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডঃ মার্গারেট হ্যারিস বলেন, মানুষ হলিউডি ফিল্মের কায়দায় একটা টিকার আশা করছে। তারা মনে করছে বিজ্ঞানীরা এটা ঠিক করে ফেলবে। দু ঘন্টার একটা ফিল্মের শেষটা বেশ দ্রুতই চলে আসে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা তো নায়ক ব্র্যাড পিট নন যে নিজেদের নিজেরাই ইনজেকশন দিয়ে বলবেন, আমরা সবাই রক্ষা পাব।” বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button