অর্থনৈতিক সংবাদশিরোনাম

করোনায় ৭৭% পোশাক শ্রমিক পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না: টিআইবি

করোনাভাইরাস উদ্ভূত সংকটে তৈরি পোশাক খাতে কর্মরত প্রায় ৭৭% শ্রমিক তাদের পরিবারের সব সদস্যের খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ ছাড়া করোনায় ছাঁটাই আতঙ্ক সৃষ্টি করে শ্রমিকদের বেতন কমিয়ে দিয়েছেন তৈরি পোশাক মালিকরা।
বৃহস্পতিবার ‘তৈরি পোশাক খাতে করোনাভাইরাস উদ্ভূত সংকট: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এই তথ্য প্রকাশ করেছে টিআইবি।
টিআইবি বলছে, করোনা সংকটকালে প্রণোদনার অর্থ প্রাপ্তিতে জটিলতা, কার্যাদেশ না থাকা ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বকেয়া পরিশোধে বিলম্ব করায় এপ্রিল মাস থেকে অধিকাংশ কারখানা নিয়মিত মজুরি দিতে পারেনি। উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় কিছু কারখানা শ্রমিক ছাঁটাই করে। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে ছাঁটাই আতঙ্ক সৃষ্টি করে কর্মরত শ্রমিকদের দিয়ে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা কাজ করালেও অতিরিক্ত কাজের বেতন-ভাতা পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে।
টিআইবি আরো বলছে, মালিকপক্ষ কর্তৃক লে-অফ করা কারখানার শ্রমিকদেরও এপ্রিল মাসে ৬৫ শতাংশ বেতন প্রদানের অঙ্গীকার করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ অঙ্গীকার মানা হয়নি। লে-অফ ঘোষণার কারণে এক বছরের কম সময় কর্মরত অনেক শ্রমিক কোনও সুবিধা ছাড়া চাকরি হারায়। ফলে কিছু কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
আবার অনেক কারখানা ঈদ পরবর্তী ছয় মাসেও ঈদ বোনাসের বাকি অর্ধেক পরিশোধ করেনি। কোনও কোনও ক্ষেত্রে কিছু কারখানা অগ্রিম নোটিশ প্রদান না করে অর্ডার বাতিল করার অজুহাতে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব কারখানায় শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করা হয়নি। ফলে করোনা উদ্ভূত সংকটে শ্রমিকরাই আর্থিকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
একটি গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মার্চ-মে পর্যন্ত বেতন এবং ঈদ বোনাসের ক্ষেত্রে প্রাক্কলিত ‘ওয়েজ গ্যাপ’ হয় যথাক্রমে ৩০% ও ৪০%। অর্থাৎ তৈরি পোশাক খাতে মোট কর্মরত শ্রমিক তাদের নিয়মিত বেতন ও ঈদ বোনাসের যথাক্রমে ৩০% ও ৪০% কম পেয়েছে।
অপর একটি গবেষণায় দেখা যায়, করোনাভাইরাস উদ্ভূত সংকটে তৈরি পোশাক খাতে কর্মরত প্রায় ৭৭% শ্রমিক তাদের পরিবারের সব সদস্যের খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button