কম্বোডিয়ার বিরোধী দলের এমপিরা গ্রেফতার আতঙ্কে দেশ ছাড়ছেন

কম্বোডিয়ায় মার্কিন সমর্থিত অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে সরকারের ব্যাপক ধরপাকড়ের আশঙ্কায় দেশটির বিরোধী দলের প্রায় অর্ধেকের মতো সংসদ সদস্য দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। গত ৩ সেপ্টেম্বরে একই অভিযোগে রাজধানী নমপেন থেকে বিরোধী দলের নেতা কেম শোকাহকে গ্রেফতার করা হয়। এরপরই অন্যান্য সংসদ সদস্যের মাঝে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার অভিযোগে আরো অনেককে গ্রেফতার করা হতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটা আর কিছুই নয়, সরকার সামনের নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতেই এ কৌশল নেওয়া হয়েছে। সামনের নির্বাচনে যদি হুন সেনের সরকার টিকে যায় তাহলে তাদের মোট তিন দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা হবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিরোধী দলীয় নেতা কেম শোকাহ’র ডেপুটি মু সোচুয়া বলেন, শুধু মাত্র ভয়ে বিরোধী দলের অর্ধেক সদস্য দেশ ছেড়েছেন। সে বিবেচনায় এখন আমাকেও সেই পথে হাঁটতে হবে। কেননা এভাবে ভয় ও আতঙ্কের মাঝে জীবন চলতে পারে না। তিনি বলেন, যারা দেশ ছেড়েছেন তাদের সঙ্গে দলের সদস্যরা যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এর মাধ্যমে তারা বিশ্বের কাছে তাদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি হুন সেনের সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগেরও চেষ্টা করছেন তারা।
এরইমধ্যে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে বিরোধী দলবিহীন সংসদ হবে। তাদেরকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। এদিকে সরকারি দলের মুখপাত্র সোক এইসান জানান, বিরোধী দল সিএনআরপি’র কারা বাইরে যাবে বা না যাবে এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে আমাদের দল (সিপিপি) সংলাপের সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে। কিন্তু বিরোধী দলীয় নেতা কেম শোকাহ’র অপরাধমূলক কর্মকান্ড তা একেবারে ধ্বংস করে দিয়েছে। উল্লেখ্য কেম শোকাহ যদি দোষী সাব্যস্ত হন তাহলে তার ৩০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। আল জাজিরা।




