
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: দশমিনা, পটুয়াখালী, ৭ নভেম্বর
বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন (বিকেএফ) ও বাংলাদেশ কিষাণী সভার(বিকেএস) উদ্যোগে আজ পটুয়াখালীর দশমিনায় মহান বিপ্লবী নেতা কমরেড আবদুস সাত্তার খানের ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কিষাণী সভার সভানেত্রী ড. সামসুন্নাহার খান ডলি।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কমরেড জায়েদ ইকবাল খান, কৃষক নেতা নয়া মিয়া সিকদার,প্রান কৃষ্ণ দাস,আঃ বারেক সর্দার,মোঃ ফিরোজ হোসেন, আঃ রাজ্জাক, মকবুল হোসেন, কিষাণী নেত্রী মনুজা বেগম,মোর্শেদা বেগম এবং স্থানীয় কৃষক ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, কমরেড আবদুস সাত্তার খান ছিলেন বাংলাদেশের খাসজমি আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা ও কৃষক মুক্তির আজীবন যোদ্ধা। তিনি নিজের শ্রেণী অবস্থান ত্যাগ করে নিপীড়িত কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সারাজীবন ভূমিহীন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণাঞ্চলে খাসজমি দখল আন্দোলন এক ঐতিহাসিক রূপ নেয়, যা আজও কৃষক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।
বক্তারা আরও বলেন, তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা “রফিক বাহিনী”-এর প্রতিষ্ঠাতা, যিনি ১৯৭১ সালে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। তাঁর রাজনীতি ছিল মার্কসবাদ-লেনিনবাদের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত, যার মূল লক্ষ্য ছিল সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন এবং কৃষকের ঘামে অর্জিত জমির ন্যায্য মালিকানা নিশ্চিত করা।
সভায় বক্তারা কৃষক মুক্তির অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং বলেন—“কৃষক না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না, ভূমিহীন না জাগলে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”
আলোচনা শেষে একটি মিছিল দশমিনা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নেতৃবৃন্দ মরহুমের সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন,বাদ জুম্মা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সাধারণখানা (সাধারণ ভোজ) অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ কিষাণী সভা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে এই মহান বিপ্লবীকে—যিনি দেখিয়েছিলেন কৃষক মুক্তির পথ ও শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের দিশা।
জয় কৃষক, জয় কমরেড আবদুস সাত্তার খান!
তাঁর সংগ্রাম চির অম্লান, তাঁর আদর্শ আমাদের পথের দিশা।




