sliderমতামতশিরোনাম

কমরেড অমল সেন, তেভাগার লড়াই ও কমিউনিস্ট আন্দোলন : পরিচ্ছেদ-৬

বিমল বিশ্বাস

আন্দোলনের কুশীলব :

তেভাগা আন্দোলনে যেসকল নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্র্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন সে সকল ব্যাক্তির নাম উল্লেখ করেছি যাতে কারো কোন অবদান আমরা ভুলে না যাই। কমরেড অমল সেন তেভাগা আন্দোলনের সমীক্ষা বইয়ে লিখেছেন তেভাগা আন্দোলনের ব্যক্তি নেতৃত্ব খুজতে যাওয়া এটা এক দুর্বুদ্ধি ছাড়া আর কিছুই নয়। তেভাগা আন্দোলনের নায়ক হচ্ছে নড়াইলের কৃষক জনগণ। কিন্তু আমার উপলব্ধি হলো ঐ সময়ে নড়াইল মহাকুমা পার্টির সম্পাদক ছিলেন কমরেড অমল সেন ও কমিউনিস্ট পার্টি ছিল নেতৃত্বে। তাছাড়া বাস্তব লড়াইয়ে যেসকল নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্র্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তার মধ্যে জেলা কমিটির সদস্য ছাড়াও নারী-পুরুষ বিশাল কর্মী সংগঠক ও নড়াইলের জনগণের ভূমিকা যেন গৌণ না হয়। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দেয় এই সকল নারী-পুরুষ সংগঠকদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ করে এগারোখান থেকে গোবরা অঞ্চল পর্যন্ত সংগঠকদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে কমরেড অমল সেন মূখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। এগারোখান অঞ্চলে মহিলা সংগঠকদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে কমরেড সরলা সিং এর ভূমিকাই ছিল মূখ্য। তেভাগা স্মৃতি পুস্তকে কমরেড নন্দলাল পাঠক উল্লেখ করেছেন হিন্দু অঞ্চলের মহিলারা যারা স্বামী, ভাসুর, শ^শুরদের নাম উচ্চারণ করা তো দূরের কথা ঘোমটা দিয়ে চলতে হতো সেসকল নারীরা তেভাগা আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে ও হাতিয়াড়া খালে বৃটিশ পুলিশকে প্রতিরোধ করার জন্যে ঝাটা নিয়ে প্রতিরোধ করেছিল তাদের অধিকাংশই কমরেড সরলা সিং এর প্রভাবেই এই আন্দোলনে ব্যাপকভাবে সামিল হয়েছিল। নড়াইল সদর থেকে গোবরা অভিমুখে বৃটিশ পুলিশদের আক্রমণকে বীড়গ্রামের কৃষকেরা যে প্রতিরোধ করেছিল, সেই প্রতিরোধের নেতা ছিলেন বীর কালা চাঁদ। বীর কালা চাদ রামদা নিয়ে বৃটিশ পুলিশকে প্রতিরোধ করবার জন্য প্রথমেই নিজে এগিয়ে গিয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন। তারই নেতৃত্বে ঢাল-সরকি, বল্লম নিয়ে বৃটিশ পুলিশদের ঘেরাও করে ফেললে পুলিশ বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল। ঐ একই সময়ে কৃষকদের প্রতিরোধের আগেই গোবরা অঞ্চলে জারি করেছিল ১৪৪ ধারা। সেই আতংকজনক পরিস্থিতিতে কমরেড আব্দুল হক গোবরা হাটে গরুর গাড়ির উপরে দাঁড়িয়ে যখন বক্তৃতা শুরু করেন তখন পুলিশ বাহিনী আব্দুল হককে মারপিঠ করে কৃষকদের ধাওয়া করলে কমরেড আব্দুল হকসহ কৃষকরা পিছু হঠেন। দৃঢ় প্রতিজ্ঞ কমরেড আব্দুল হক ও কৃষকরা পুনঃসংগঠিত হয়ে মিছিল শুরু করেন। ১৪৪ ধারা মানিনা মানিনা ¯েøাগান দিয়ে হাজার হাজার কৃষক মিছিলে যোগদান করতে থাকেন। তখন পুলিশ বাহিনী পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছিল। গোবরা পঞ্চলে প্রচারপত্র বিলি হতে দেবে না মিছিল করতেও দেবে না, এই ঘোষণা দিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করে আতংকজনক ও হতাশাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার মধ্য দিয়ে কৃষক জনগণ ব্যাপকভাবে উৎসাহিত হয়। যার প্রভাব সমগ্র তেভাগা অঞ্চলের কৃষকদের উৎসাহিত করেছিল।
বাগমারা অঞ্চলেও কমরেড নূরজালালের নেতৃত্বে দূর্গাপুর, ডুমুরতলা, দলদিতপুরের কৃষকরা পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়েছিল। পুলিশের অস্ত্রও কেড়ে নিয়েছিল। সেখানেও বৃটিশ পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়। পুলিশের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া অস্ত্র ফেরত দেয়। এ ব্যাপারে কমরেড নূরজালাল ও কৃষকরা সশস্ত্র সংগ্রামের পথে না গিয়ে সঠিক কৌশল গ্রহন করেছিল। এই সঠিক কৌশলের জন্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে আন্দোলনকে রক্ষা করা যায়।
চলবে/১৬

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button