
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একপর্যায়ে উপাচার্যকে তার বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রাখে।
রবিবার সকাল ৯টায় প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে সকাল ১০ টায় একটি বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে জয় বাংলার মোড়ে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করে। পরবর্তীতে বিজ্ঞান ভবন ও কলা ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিপাকে পরে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের কোটায় ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীরা। সকালে প্রশাসনিক ভবনে কর্মকর্তারা প্রবেশের চেষ্টা করলেও পারেননি।
আন্দোলনের ৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রশাসন থেকে কেউ না আসায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্য বাংলোর সামনে এসে অবস্থান নেন। তারা উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমানকে তার বাসভবনে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন।
এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করতে আসেন প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, ছাত্র উপদেষ্টা ড. শেখ সুজন আলী প্রমুখ। একপর্যায়ে প্রক্টরিয়াল বডি উপাচার্যের বাসভবনে প্রবেশের কিছুক্ষণ পর উপাচার্যসহ তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।
উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
বিকেল ৫টার মধ্যে লিখিত আকারে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে প্রশাসন নোটিশ না দিলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৫ দিনের মধ্যে দুই হল চালু, ৫টি বাস প্রদান, মসজিদ এবং মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন।
এসবের প্রেক্ষিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে পরতে হয়েছে উপাচার্যের।
উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন- আমি চাইলেই সব হয় না। অনেক বাধা আসে। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব। আগামী মার্চের ৩০ তারিখের মধ্যে হলে ওঠার ব্যবস্থা গ্রহণ করব এবং আগামী ৭ দিনের মধ্যে ১টি নিজস্ব বাস চালু হবে। অচিরেই মসজিদ-মন্দিরের কাজ শুরু করবে প্রশাসন।
অন্যদিকে মানব সম্পদ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল আমিনের অনিয়মের প্রেক্ষিতে করা তদন্ত কমিটি বাতিল চেয়ে বেলা ১টা থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন।




