slider

কটিয়াদী সদর হাসপাতালে ঔষধের স্বল্পতায় খালি হাতে ফিরছে রোগী

রতন ঘোষ,কটিয়াদী প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারের ডায়বেটিস রোগী রহিমা বেগম (৬০)। তিন সপ্তাহ ধরে আসছেন কটিয়াদী সরকারি হাসপাতালে ঔষধ নিতে। প্রতিবার তাকে জানানো হয়েছে ঔষধ নেই। সরকারি ঔষধই তার একমাত্র ভরসা ঔষধ না পেয়ে চোখেমুখে হতাশার ছাপ রহিমার মতো এমন অনেক রোগীরাই ২০-২৫ দিন ধরে প্রয়োজনীয় ঔষধ পাচ্ছেন না। বিশেষ করে ডায়বেটিসে আক্রান্ত রোগীরা অধিক সমস্যায় আছেন। দ্রুত সংকটের সমাধান চান ভুক্তভোগীরা ।

গত ১৫ দিনে হাসপাতালের বহির্বিভাগে গিয়ে দেখা যায় রোগীদের ভীড় গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ গুলোর সংকট। হাসপাতালের ঔষধ বিতরণ কেন্দ্রের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স নাদিরা। তিনি জানান, লোসারটিন, গ্লিকাজাইড,মেটফরমিন,লোসারটিম ৫০ প্লাস ঔষধ গুলো নেই। ঔষধ গুলোর চাহিদা ও রোগী বেশি কিন্তু চাহিদামতো দেওয়া যাচ্ছে না । এ সময় অনেক রোগীদের ফিরে আসতে দেখা যায়। এসময় সেবা নিতে আসা রোগী আচমিতা ইউনিয়নের ভিটাদিয়া গ্রামের আমিনুল হক বলেন, ঔষধ নিতে আসছি কিন্তু বলা হচ্ছে ঔষধ নেই। অনেকদিন ধরে ঔষধ পাচ্ছিনা। সঠিকভাবে বন্টন হয়না, বড়লোকের পেটে যাচ্ছে গরিবের ঔষধ। হাসপাতালের
বহির্বিভাগের ঔষধ বিতরণ কেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ লাইন অনেকের হাতে শুধু প্যারাসিটামল,সালবিটামল, ক্লোরোফির- মিন,জিংক, এগুলো দেওয়া হচ্ছে। মাঝেমধ্যে অন্য কয়েক আইটেম দেওয়া হচ্ছে বাকিগুলো বাহির থেকে কেনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বহির্বিভাগের সামনে উপস্থিত একাধিক রোগীরা অভিযোগ করেন, পরিচিত লোকজন, এবং মুখ-চেনা মানুষদের বেশি ও গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ গুলো দেওয়া হয় এছাড়াও হাসপাতালের আশপাশের বহিরাগতরা ভিতরে ঢুকে ঔষধ নিয়ে যায়। প্যারাসিটামল, জিংক,সিটরিজিন, এমন কয়টা দিয়ে বাকি গুলো নেই বলে বলা হচ্ছে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য মন্টিলোকাস্ট ও গ্যাসের প্যান্টোপ্রাজল, স্যালাইন, এন্টিবায়োটিক গ্রুপের ঔষধ গুলো দেওয়া হয়না ।

অনুসন্ধান ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,প্রভাবশালী লোকদের তদবির ও হাসপাতালের ভিতরের দুয়েকজন কর্মচারীদের যোগসাজশে এসব ঔষধ পছন্দের একেকজন বেশি করে নিয়ে যায়। ফলে একদম হতদরিদ্র রোগীরা বঞ্চিত হয় ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয় এছাড়াও সরেজমিনে গিয়ে ঔষধ বিতরণ কক্ষে ঢুকে কয়েকজনকে প্রভাব খাটিয়ে ঔষধ নিয়ে যেতে দেখা গেছে। ক্রয় ক্ষমতা আছে এমন অনেকেই সরকারি ঔষধ নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই একমাসের অধিক ঔষধও নিচ্ছেন। আর এতে করে ক্রয় সামর্থ্য নেই এমন দরিদ্র ও অসহায় মানুষরা আছেন বিপাকে। সার্বিক বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে কথা হয় কটিয়াদী উপজেলা
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এসএম মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় রোগী বেশি কিছু ঔষধ ফুরিয়ে গেছে সত্য ঔষধ বিতরণে যাতে বৈষম্য না করা হয় এবং হাসপাতালে কোন কর্মচারী ও বহিরাগত কেউ যাতে প্রভাব খাটিয়ে ঔষধ না নিতে পারে এজন্য আরএমও ও সংশ্লিষ্টদের সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অচিরেই সমস্যার সমাধান হবে আশাকরি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button