slider

কটিয়াদীতে প্রতিনিধি ও ডায়াগনস্টিক দালালদের দৌরাত্ম্যে রোগীরা অসহায়

রতন ঘোষ,কটিয়াদী প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সামনে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা কোনো রোগী চিকিৎসক দেখিয়ে ফিরছেন তখনই তাকে ঘিরে ধরছেন তারা। রোগীর হাত থেকে প্রেসক্রিপশন নিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে নিচ্ছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দিনভর মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের দখলে থাকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালসহ বেসরকারি ক্লিনিক ও চিকিৎসকদের চেম্বার । ওই হাসপাতালে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত একই দৃশ্য দেখা যায়। ভিড় করে থাকা ওই লোকগুলো বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি । এ ধররের তৎপরতা
দীর্ঘদিন ধরে চলছে কটিয়াদী হাসপাতালসহ বেসরকারি ক্লিনিক ও চিকিৎসকদের চেম্বারের সামনে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন । রোগীরা চেম্বার থেকে বের হলেই তারা চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রটি টেনে নিয়ে ছবি তুলতে থাকেন । একেকজন রোগীর ব্যবস্থাপত্র নেয়ার জন্য ১০-১২ জন প্রতিনিধি টানাটানি শুরু করেন । অনেক মুমূর্ষু রোগী এতে আরও অসুস্থ হয়ে যান । এনিয়ে রোগীর স্বজন ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধির মধ্যে ঝগড়াও হয়। এমন দৃশ্য হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডেও। কিছুক্ষণ পরপর দলবেঁধে এসে ভর্তি রোগীর চিকিৎসাপত্র যাচাইবাছাই করে দেখেন তাদের কোম্পানীর ওষুধের নাম আছে কি না । নাম থাকলে ওষুধ সম্পর্কে কিছু বিজ্ঞাপনও দিয়ে যান তারা । অনেক রোগীই তাদের বেশভূষা দেখে চিকিৎসক মনে করে স্যার সম্বোধন করে রোগীর বিভিন্ন সমস্যার কথাও বলছেন তাদেরকে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ওষুধ কোম্পানি ডাক্তারদের তাদের
কোম্পানির ওষুধ লেখার জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকেন । ওষুধ কোম্পানির লোকেরা (রিপ্রেজেন্টিভ) ক্লিনিকের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র যাচাই-বাছাই করে সত্যতা নিশ্চিতের চেষ্টা করে ওষুধগুলো ঠিকমতো লিখল কি না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি জানান, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে ডাক্তাররা আমাদের কোম্পানির চুক্তি অনুযায়ী রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে ঠিকমতো ওষুধগুলো লিখছে কি না যাচাই করা । তাই বাধ্য হয়ে ডাক্তারের চেম্বার থেকে রোগীরা বের হলেই প্রেসক্রিপশন দেখার চেষ্টা করি ।

কটিয়াদী সরকারী হাসপাতালে সিন্ডিকেট ‘সেবা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা। রোগীদের ভর্তি, সিট বরাদ্দ, টেস্ট রিপোর্ট সংগ্রহ, সেবাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী এবং বাইরের দালালদের সঙ্গে
সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তারা রোগীদের কাছ থেকে চিকিৎসা সেবার নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা। সিন্ডিকেটের বাইরে কোনো কিছু সেবা পাওয়ার সুযোগ নেই। চিকিৎসা নিতে গেলেই সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হতে হয়। হাসপাতালই যেন তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল । ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগী পাঠানোর ফলে বিলের একটি বড় অংশ কমিশন পান চিকিৎসক। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসার নামে হারবাল ওষুধ, সেবা বিঘ্নিত হয় এমন বিভিন্ন ওষুধ কম্পানির ওষুধলেখা সহ চিকিৎসকদের অমানবিক টেস্ট বাণিজ্যের অভিযোগে শাস্তিমূলক বদলি করলেও ক্ষমতার জোরে তারা স্ব-স্থানে বহাল রয়েছেন এমন একজনের নাম স্বাস্থ্য সহকারী খাদেমুল ইসলাম ।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালটিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্রায় ৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রত্যেকটির সাথে ১/২ জন দালাল, ঔষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টটেটিভ প্রায় সময় জরুরী বিভাগকে ঘিরে রাখে। তখন প্রকৃত রোগীরা চিকিৎসকের সেবা বঞ্চিত বা সেবা পেতে কষ্ট বা বিড়ম্বনার শিকার হয়। সেবা বিঘ্নিত হয় এমন বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টটেটিভদের অবাধ উপ¯ি’তি । উক্ত পরিস্থিতি বা রোগীদের দূভোগ দেখার কেউ নেই ।

একাধিক ক্লিনিক মালিক জানান, একজন ডাক্তারের যা যা সুযোগ-সুবিধা দেয়ার প্রয়োজন আমরা তাই দিয়ে থাকি । এর বিনিময়ে আমরা রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা- নিরীক্ষা করার দায়িত্ব পাই । তারা আরো জানান, ওষুধ কোম্পানির মালিকরা বিভিন্ন লোভনীয় অফার দিয়ে ডাক্তারদের মানসিকতা নষ্ট করে ফেলছে। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সুধী সমাজ ডাক্তারদের এ ধরনের কাজকর্মের প্রতিরোধ করার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ।

সার্বিক বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে কথা হয় কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ লোপা চৌধুরীর সাথে – তিনি বলেন, উক্ত হাসপাতালে আমি নতুন যোগদান করেছি,উক্ত বিষয় গুলো আমার দৃষ্টিগোচরের পর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আরএমও ও সংশ্লিষ্টদের সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অচিরেই সমস্যার সমাধান হবে আশাকরি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button