sliderস্থানিয়

কটিয়াদীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট

রতন ঘোষ, কটিয়াদী প্রতিনিধি: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে, সারা দেশের ন্যায়, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতেও দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। যানবাহন বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকগণ তেলের জন্য পাম্প বা প্যাকে লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে তেল পাচ্ছেন মাত্র ২ লিটার । লাইন লম্বা হতে হতে প্রায় এক কিলো মিটারের অধিক বিস্তৃত হয়েছে। ভিড় সামাল দিতে মোতায়ন রয়েছে পুলিশ, তাতেও তেল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্যাক বা পাম্পের মালিকগণকে। তেলের জন্য এমন হাহাকার পরিস্থিতিতে ভোক্তাগণের দুর্ভোগ বেড়েছে।
বুধবার সকাল থেকে রাত্র পর্যন্ত কটিয়াদী বাজারের মেসার্স দেবনাথ রাধানাথ রায়ের তেলের দোকানে তীব্র ভিড় দেখা গেছে। লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেক মোটরসাইকেল চালককে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত তিন সপ্তাহ ধরে ফিলিং স্টেশন গুলিতে পেট্রোল- অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের সংকট নিরসনে প্রশাসনের ভূমিকা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তাগণ। সর জমিনে দেখা যায়, পেট্রোল ও অকটেনের স্বাভাবিক সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ ভোক্তা গনকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। কোথাও সীমিত সরবরাহ এলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ী ও চাকরির কাজে যারা নিয়মিত মোটর সাইকেলের ব্যবহার করেন, তারা পড়েছেন বিপাকে। অনেকের পথের মধ্যেই তেল শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে মোটরসাইকেল ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ রুহান আলী বলেন, “গ্রামের খুচরা ব্যবসায়ীরা তেল কোথায় পাচ্ছে তা খুঁজে বের করা জরুরী। পাম্প থেকে তেল বাইরে চলে যাচ্ছে কিনা তাও খুঁজে দেখা দরকার।
এদিকে সংকটেরসৃষ্টি হওয়ার কারণে কোথাও কোথাও কিছু খুচরা ব্যবসায়ী খোলা বাজারে পেট্রোল-অকটেন ২০০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার ফলে আমাদের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে”। কটিয়াদী বাজারে মেসার্স দেবনাথ রাধানাথ রায় তেল প্যাক এর স্বত্বাধিকারী দেবাশীষ রায় পার্থ বলেন, “৩ হাজার লিটার পেট্রোল পেয়েছিলাম তীব্র চাহিদার কারণে তা দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। ভীর সামলাতে আমাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে”। বুধবার পাম্প বন্ধ থাকার বিষয়ে খান ব্রাদার্স এন্ড ফিলিং স্টেশানের ম্যানেজার আশরাফুল হক কাজল জানান, সংকট সৃষ্টির পূর্বে প্রতিদিন ১হাজার থেকে ১২ শত লিটার তেলের চাহিদা ছিল। কিন্তু ঈদের পরের দিন ৪৫০০ লিটার তেল পাওয়ার পরেও একদিনেই এই তেল শেষ হয়ে গেছে। পুনরায় ডিও দেওয়া আছে, তেল পেলেই পাম্প চালু করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ বলেন, তেলের কোন সংকট নেই, পাম্প বা প্যাকে নিয়মিত যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হতো, তা বর্তমানেও বিদ্যমান আছে। তবে ভোক্তাগণ অতিরিক্ত তেল নেওয়ার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। ভোক্তাগনকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং প্রশাসন সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। কৃত্রিম সংকট দ্রুতই দূর হয়ে যাবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button