কটিয়াদীতে জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে আইনজীবী গ্রেপ্তার

রতন ঘোষ, কটিয়াদী প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে তিন ফসলি জমি থেকে সরকারি অনুমতি ব্যতীত অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ২১ নভেম্বর মঙ্গলবার গভীর রাত্রে এক আইনজীবী গ্রেপ্তার হয়েছে ।
ঘটনার বিবরণী জানা যায়, ভরারদিয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সোহাগের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কটিয়াদী উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তামারা তাসবিহা গত ১৭নভেম্বর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে পৌরসভার ভরারদিয়া গ্রামের মৃত আছির উদ্দিনের পুত্র আইনজীবী আলাউদ্দিন সরকারি অনুমতিবিহীন ৩ ফসলী নিজস্ব জমি থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিলো। সেই সময় অভিযুক্ত আলাউদ্দিন কে না পেয়ে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে ভালো উত্তোলনের জিনিসপত্র জব্দ করেন। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায় আলাউদ্দিন পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি তার নিজস্ব ভূমি থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে মোটা পাইপের মাধ্যমে দূরবর্তী তার অপর একটি ফসলি জমিতে স্তুপ আকারে জমা করছিল, সেই সাথে তার পাশের আরেকটি জমিতে ছোট্ট একটি ঘর ও নির্মাণ ক রে। অথচ এই সমস্ত জমিগুলির চারপাশে রয়েছে বিস্তীর্ণ তিন ফসলি কৃষিজমি। এসব জমিতে সাধারণত বেগুন সিম আলু মরিচ লেবু বাগানসহ বিভিন্ন ধরনের শস্য আবাদ করা হয়। অথচ এ এলাকার মানুষের আ এর প্রধান উৎসই কৃষি নির্ভর। আলাউদ্দিনের অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের ফলে একদিকে যেমন কৃষি জমি গুলি উর্বরতা হারাচ্ছে অপরদিকে বালু তোলার পাইপ দিয়ে আসলে জমিতে বালু আরা নেওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জমিসহ আবাদি ফসল। আলাউদ্দিনের বালু উত্তোলনের জমির পুকুর সম গর্ত সৃষ্টি করার ফলে আশেপাশের ফসলে জমি গুলি ভেঙ্গে সৃষ্ট গর্তে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে কোন উপায় না দেখে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সোহাগ তার ফসলী জমি রক্ষার জন্য স্থানীয় সরকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে আইনজীবী আলাউদ্দিন সালামালাইকুম ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সোহাগ ও তারসহোদর ভাই রাসেলের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজীর মামলা দায়ের করে। যাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
মামলার ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক জানান এলাকার কেউ এই আইনজীবীর বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয়। এ বিষয়ে পৌর মেয়র শওকত ওসমান বলেন, সোহাগ একজন সাধারন কৃষক অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আইনজীবী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সোহাগের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি )তামারা তাসবিহা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেন। পরবর্তীতে আবারও এ ধরনের অপরাধ করলে পুনরায় অভিযান চালানো হবে। অপরদিকে কটিয়াদী মডেল থানার ওসি এস এম শাহাদাত হোসেন বলেন, কটিয়াদী পৌর ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান বাদী হয়ে আইনজীবী আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করে,যার ফলে মামলার আসামিকে গ্রেফতার করেছি এবং আইনগত সমস্ত কার্যক্রম শেষে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হবে।




