slider

কখনও বুলেট, কখনও বোমা, কখনও গ্রেনেট হামলা করে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে- সাংসদ মমতাজ

জ.ই. আকাশ, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) : কখনও বুলেট, কখনও বোমা, কখনও গ্রেনেট হামলা করে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্নভাবে চক্রান্ত করা হয়েছে। কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে? শেখ হাসিনাকে আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন। তার একটাই কারণ, এই বাংলার অবহেলিত মানুষদের ভাগ্য উন্নয়ন করার জন্য, তাদেরকে একটু খেয়ে পরে, সুস্বাস্থ্যে সুন্দরভাবে এই দেশে যেন তারা বসবাস করতে পারে। চমৎকার একটি দেশ, পরিবেশ এবং মানুষের জন্য কাজ করতেই আল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট আমরা বাঙালি জাতির পিতাকে হারিয়েছি। হারিয়েছি তার সহধর্মীনি ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে। হারিয়েছি শেখ কামাল, শেখ জামালসহ তাদের সহধর্মীনি ও ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলসহ অনেককেই আমরা সেদিন হারিয়েছি।”
গত ২১ আগষ্ট (রবিবার) বিকালে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আয়োজনে উপজেলার ঝিটকা বাজার বাসস্ট্যান্ডে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ ও সিঙ্গাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ বেগম এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রত্যেকটা জায়গায় কাজ করা চেষ্টা করেছি। আমরা কথায় বড় হই নাই কখনও। আমরা আপনাদের পাশে আছি, আমরা আপনাদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। এই হরিরামপুরসহ মানিকগঞ্জের আনাচে কানাচে আমার যাওয়া। পায়ে হাঁটার রাস্তা ছাড়া কোথাও কোনো রাস্তা ছিল না। এই ঝিটকা থেকেই কোনো ভাবেই একটা রিক্সা নিয়ে কোনো জায়গায় যাওয়া যেত না। আজ ১৫-২০ বছরের ব্যবধানে দেশটাকে কত সুন্দর হয়েছে! শেখ হাসিনা যদি ক্ষমতায় না আসত তাহলে এটা সম্ভব হতো না। দশ বছর আগেও এই দেশে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ছিল না। আমরা ঘরের বিদ্যুৎ দিছি, রাস্তাঘাট, কালভার্ট যেখানে যা লেগেছে আমরা তাই দিছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাধিক ভবন দিয়ে আপনার সন্তানদের জন্য আমরা পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছি। এখন জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বই তুলে দিয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে এই সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
হরিরামপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক আমিনুর রহমান চৌধুরী মিল্টনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয় সম্পাদক হাজী মো. ইউসুফ, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আবিদ হাসান বিপ্লব, হরিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলজার হোসেন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আব্দুর রব প্রমুখ।
হরিরামপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফরিদ মোল্লার সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রাজা ও যুগ্ম- আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান জনি।
স্মরণ সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আজিম খান, সরকারি বিচারপতি নূরুল ইসলাম মহাবিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি কাজী ইকবাল হোসেন পল, জেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাফর ইকবাল বিপুল, মেহেদী হাসান ফুয়াদ, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হৃদয় আহমেদ রজ্জব, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিদুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি লুৎফর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান ফিরোজ।
এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক খান তুষার, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. বাবুল হোসেন, জেলা মহিলা লীগের সভাপতি মৃদুলা রহমান নীলুসহ জেলা, উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে ১৫ই আগষ্টে নিহত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সকল সদস্যসহ এবং ২১ আগষ্ট গ্রেনেট হামলায় নিহত সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button