ঐতিহ্যবাহী জিলাপি থাকতেই হবে ইফতারে

আব্দুর রহমান রাসেল,রংপুর ব্যুরো: রংপুরের শহর ও গ্রামের-সব মানুষের খুব প্রিয় এখানকার ঐতিহ্যবাহী জিলাপি। এই জিলাপি যেন থাকতেই হবে ইফতারে। সেই সঙ্গে বুন্দিয়া আর দেশি মুড়ি। এ ছাড়া গ্রাম অঞ্চলে দইবড়া ও মুড়িমাখা থাকে ইফতার উপকরণ হিসেবে। এখানকার ইফতারে নগরজীবনে ফালুদা,বুট বিরিয়ানি, হালিম, পাতাবড়া, পাটিসাপটা পিঠা, খাসির কাবাব, পেঁয়াজু আর বেগুনি থাকে প্রতিদিনের মেন্যুতে। তবে ইফতার বিক্রির মূল আয়োজন হচ্ছে নগরীর খামার মোড়, শাপলা চত্তরের পাশে, সিটি বাজার, ও কাচারী বাজার রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকানগুলোতে। জানা গেছে,শহরতলীর পুরানো মিষ্টান্ন ভান্ডার গুলোতে জিলাপির আলাদা কদর রয়েছে। এখানকার জিলাপি একসময় বাঁশের খাঁচায় বিক্রি হতো। কি শহর, কি গ্রাম-সব মানুষের খুব প্রিয় এই জিলাপি। দেশ স্বাধীনের আগে এই জিলাপি বিক্রি হতো ১ আনা পোয়া হিসেবে। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। এখানে গুড়ের ও চিনির জিলাপি পাওয়া যায়।’এই জিলাপির রং হলুদ-খয়েরি। আকারে চিকন ও মাঝারি। সারা বছর এই জিলাপি মিললেও রমজানের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়। তবে এ বছর গুড়ের দাম বেশি ও সরবরাহ কম হওয়ায় গুড়ের জিলাপি তৈরি হয়েছে তুলনামূলক কম। নগরের দূর-দূরান্ত থেকে এসে এই জিলাপি কিনে নিয়ে যায় লোকজন। নগরীর চেক পোস্ট এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সামাদ ইফতার কিনতে এসে বলেন, এখানকার ইফতার খুব সুস্বাদু ও ঐতিহ্যবাহী। প্রতিদিন অনেক দূর থেকে আসি এই ইফতার নেওয়ার জন্য। পীরগাছা থেকে ইফতার কিনতে আসা এ.কে.এম. আমিনুল ইসলাম স্বপন নামে এক ক্রেতা বলেছেন, এখানকার ইফতারের অনেক নাম ডাক আছে, এজন্য আমি সব সময় আমার প্রাণের শহর রংপুর থেকে ইফতার কিনি। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা কয়েকজন ক্রেতা বলেন,মধ্য দুপুর হতে ইফতার পূর্ব-পর্যন্ত রংপুর মহানগরীর মেডিকেল মোড় ও বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়ে ইফতারের পসরা সাজিয়ে বসেছে আধুনিক হোটেলগুলো। আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মধ্যদুপুর থেকে ইফতার পূর্বপর্যন্ত বিক্রি হয় ইফতারি পণ্য। এসব হোটেলে দইবড়া, টক দইসহ নানা পদের ইফতার কিনেন ক্রেতা সাধারণ। স্বাদ আর ঐতিহ্যের মিশেলে পাওয়া যাচ্ছে বাহারি পদের ইফতার। তবে পন্যের দাম কিছুটাচড়া বলে জানালেন কেউ-কেউ। বিক্রেতারা জানান,চাহিদার সাথে মিল রেখে বিভিন্ন পদের ইফতার তৈরি করছেন তারা।আবার ছোট-ছোট হোটেল রেস্তোরার পাশা-পাশি অভিযাত রেস্তোরা গুলোতেও পরিবার-পরিজন নিয়ে ইফতার করছেন অনেকে।



