এ সরকারের জনসমর্থন নেই : সিপিবি

সোহরাওয়ার্দীতে একাদশ কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, এ সরকারের জনসমর্থন নেই। আর বিরোধী দলে থেকে বিএনপি কিছু করতে পারছে না। আর এজন্য সকল বাম রাজনৈতিকমনা দল ও ব্যক্তিদের ঐকবদ্ধ হবে। তিনি বলেন, আর দূরে থাকবেন না, ভেদাভেদ ভুলে লাল পতাকা তলে আসুন।
দুপুর ২টায় সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে সিপিবির চার দিনব্যাপী একাদশ কংগ্রেসের উদ্বোধন হয়। জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে কংগ্রেসের উদ্বোধন করেন পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ। এসময় দলীয় প্রতীক কাস্তে-হাতুড়ি ও লাল ঝাণ্ডবাহী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে উদ্বোধনস্থল হয়ে ওঠে লাল সমুদ্র।
সভাপতির ভাষণে সেলিম আরো বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্য বদলাতে কেবল গদি নয়, গণবিরোধী, জাতীয় স্বার্থবিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী রাজনৈতিক নীতিও বদলাতে হবে। এ দেশে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনীতির কোনো স্থান থাকতে পারে না। তরুণ প্রজন্ম বিপুল গণজাগরণ তৈরি করে তা বুঝিয়ে দিয়েছে। তাই এমন রাজনৈতিক পরিমণ্ডল নির্মাণ করতে হবে যেখানে সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়ই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি হবে। তিনি বলেন, বিএনপি জামায়াতকে ত্যাগ না করলে জনসমর্থন পাবে না।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের সমালোচনা করে সেলিম বলেন, দল দুটি একে অপরের গদির বিরোধিতা করলেও তাদের আর্থ-সামাজিক নীতি অভিন্ন। তিনি বলেন, “গত ২৫ বছর ধরে এই দুই দল রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। তারা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে নতজানু হয়ে মুক্তবাজার অর্থনীতির নামে লুটপাটের ব্যবস্থা চালু রেখেছে।
অনুষ্ঠানে আসা ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেপাল, ভিয়েতনাম, জার্মানি, ব্রিটেন, রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়াসহ ১২টি দেশের কমিউনিস্ট ও ওয়ার্কার্স পার্টির ২৬ জন প্রতিনিধিদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। পার্টির বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা ছাড়াও রাজনৈতিক দলের নেতা, বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, পেশাজীবীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।




