শিরোনাম

এসআই পদে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাড়ে ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরের বদরগঞ্জে এসআই পদে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মজিদুল ইসলাম প্রামানিক ওরফে মাজেদ নামে এক পুলিশ কনস্টেবল। আর ওই টাকা পরিশোধ করতে তিনি দিয়েছেন স্ত্রীর ব্যাংক আ্যাকাউণ্টের চেক। ফলে চেক ডিজনার মামলায় তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও রংপুরের জুডিয়াশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা পৃথক দু’টি মামলায় আসামী হয়েছেন স্ত্রী সাজেদা আক্তার সেলিনা ।
জানা যায়, উপজেলার গোপিনাথপুর ইউনিয়নের শালবাড়িহাট এলাকার খিয়ারপাড়ার মজিবরের রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম মাস্টার্স পাশের পর পরিচয় ঘটে তৎকালিণ রংপুর রেঞ্জের পরশুরাম থানায় ও বর্তমানে খুলনা রেঞ্জে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মজিদুল ইসলাম ওরফে মাজেদের। তিনি পরিচয় পর্বের শুরুতেই রফিকুলকে এসআই পদে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রæতি দেন। এজন্য তিনি উর্ধতন কর্মর্তাদের ম্যানেজ করতে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন। ছেলে পুলিশ কর্মকর্তা হবে একথা ভেবে রফিকুলের বাবা মজিবর রহমান জমি বিক্রি করে কয়েক দফায় ওই পুলিশ কর্মকর্তার হাতে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন। ওই টাকা দেয়ার পর একবছর অপেক্ষা করেও ছেলের চাকরি না হওয়ায় মজিবর বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। একারণে ছেলে রফিকুল এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে নিয়ে মাজেদের সাথে সাক্ষাত করে টাকা ফেরত দেয়ার অনুরোধ করেন। এতে কাজ না হওয়ায় রফিকুল রংপুরের ডিআইজিসহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাত করে তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ফলে বাধ্য হয়ে কনস্টেবল মাজেদ টাকা ফেরত দিতে রাজি হন। এক্ষেত্রে তিনি দু’টি ব্যাংক চেক ব্যবহার করেন। একটিতে তিনি পাঁচ লাখ টাকা এবং অন্যটিতে দু’লাখ টাকা উল্লেখ করেন। তবে এ দু’টি চেকই তার স্ত্রী সাজেদা আক্তার সেলিনার ব্যাংক অ্যাকাউণ্টের চেক। পরবর্তীতে ওই চেক দু’টি নিয়ে রূপালী ব্যাংক রংপুর আরকে রোড শাখায় গেলে ম্যানেজার জানিয়ে দেন ওই অ্যাকাউণ্টে কোন টাকা টাকা নেই। ফলে ব্যাংকিং নিয়মে চেক দু’টি ডিজনার হয়ে যায়। এঘটনার পর রফিকুল নিরূপায় হয়ে আদালতে পৃথক দু’টি মামলা করেন। এরপরই তড়িঘড়ি করে বদলি নিয়ে কনস্টেবল মাজেদ খুলনা রেঞ্জে চলে যান।
এবিষয়ে জানতে রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওই কনস্টেবল শুধু আমার নয়, আরো বেশকিছু মানুষের সর্বনাশ করেছেন। তারাও নানাভাবে তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। আবার কাউকে স্ত্রীর নামীয় চেকও দিয়েছেন। তিনি বলেন, মাজেদ পুলিশ কনস্টেবল হলেও শুধুমাত্র প্রতারণা করে রংপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্র হনুমানতলায় বিশাল প্লটের মালিক হয়েছেন।
এবিষয়ে জানতে কনস্টেবল মজিদুল ইসলাম ওরফে মাজেদের সাথে সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আত্মীয়তার সুত্র ধরে মজিবরের বাড়িতে যাতায়াত। কিন্তু একটু ভুল বোঝাবুঝির কারণে মামলার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ওই দু’টি মামলায় আমাকে নয়, আমার স্ত্রীকে আসামী করা হয়েছে। যা এখনো চলমান রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button